মনজুর আলম:
কক্সবাজার–ঈদগাহ–চৌফলদণ্ডী সড়কে একসময় সিএনজির ভাড়া ছিল ৭০ টাকা, যা তখনও যাত্রীদের কাছে অযৌক্তিক মনে হতো। পরে জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে সিএনজির ভাড়া বাড়িয়ে ৯০ টাকা করা হয়, যা সাধারণ মানুষের ওপর এক ধরনের জুলুম। কষ্ট হলেও সাধারণ মানুষ তা মেনে নিয়েছিল।
যেখানে দেখা যায়, ঈদগাহ থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার এবং গাড়িভাড়া ৫০ টাকা। অথচ ঈদগাহ থেকে চৌফলদণ্ডী হয়ে কক্সবাজারের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার হলেও গাড়িভাড়া ৯০ টাকা। ঈদগাহ–চৌফলদণ্ডী–কক্সবাজার সড়কে দীর্ঘদিন ধরে সিএনজির একক আধিপত্য বা সিন্ডিকেটের কারণে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এই অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি। বিকল্প পরিবহন, যেমন মিনিবাস ও টেম্পু চালু করা হলে গাড়িভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে। এতে শত শত স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
এখন গ্যাসের দাম কমে যাওয়ার পরও সিএনজির ভাড়া আগের মতোই ৯০ টাকা রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে গাড়িভাড়া বাড়বে, আর জ্বালানি তেলের দাম কমলে ভাড়া কেন কমবে না? এটি সাধারণ মানুষের সঙ্গে অন্যায় ছাড়া আর কিছুই নয়।
প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতকারী কর্মজীবী মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের একজনকে শুধু ঈদগাহ–কক্সবাজার যাতায়াতেই যদি প্রায় ২০০ টাকা ব্যয় করতে হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কষ্টের শেষ কোথায়? কর্মজীবী মানুষের মাসিক আয়ের বড় একটি অংশ শুধু যাতায়াতেই শেষ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের এই কষ্ট দেখার কি কেউ নেই?
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ এবং বিকল্প গণপরিবহন চালুর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন।