কচুয়ায় ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি আলী আরশাদের প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ফোনালাপের অডিও ভাইরাল; শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আলী আরশাদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ফোনালাপের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অডিওটি স্থানীয়দের মোবাইল ফোনেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই অডিও ক্লিপে পার্শ্ববর্তী বিতারা গ্রামের এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথন রয়েছে। আলী আরশাদ উপজেলার ৩ নম্বর বিতারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ফোনালাপ ভাইরাল হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

দুর্গাপুর, বিতারাসহ আশপাশের এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আলী আরশাদ একই গ্রামের মালু ওরফে আচমত আলীর মেয়ের সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই থেকে তিন বছর সম্পর্ক থাকার পর তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে ওই নারীর বর্তমান স্ত্রীর ভাই আবুল হোসেন বাদী হয়ে চাঁদপুর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় আলী আরশাদ ও তাঁর বাবাকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় আলী আরশাদ কয়েক মাস কারাভোগ করেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পরে আদালত ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে চার গণ্ডা জমি লিখে দিয়ে তিনি ওই নারীকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিয়ের পরও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভিজিডি ও ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং কয়েকজন নারীর প্রতি অশালীন আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুর্গাপুর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির পদ লাভ করেন এবং এলাকায় নিজেকে বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি কোনো স্থায়ী পেশায় নিয়োজিত না থেকেও নিজেকে শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সালিসে হস্তক্ষেপ করেন এবং কচুয়া থানা পুলিশ ও উপজেলা বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। পাশাপাশি সরকারি অনুদান, ভিজিএফ ও ভিজিডির চাল বিভিন্ন ব্যক্তির নামে তুলে আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যুসহ কোনো অপরাধীর ভোট তাঁর প্রয়োজন নেই। নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি বলেছেন, কচুয়ায় কোনো অপরাধীর স্থান হবে না। অথচ এমন অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি ওয়ার্ড যুবদলের পদে থেকে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে বিএনপি ও শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিষ্কার এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলী আরশাদ ভূঁইয়ার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ছবি: যুবদল নেতা আলী আরশাদ ভূঁইয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *