কুমিল্লার বরুড়ায় ধর্ষণকারী হারুনুর রশিদের লালসার বলি ছয় বছরের নিষ্পাপ শিশু

মোঃআনজার শাহ:-

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় এক নারকীয় ঘটনায় মাত্র ছয় বছর বয়সী একটি নিষ্পাপ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) বিকাল আনুমানিক দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে উপজেলার ১৪ নং লক্ষীপুর ইউনিয়নের ২ নং বড় কালিকাপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ধর্ষণকারী হারুনুর রশিদ, পেশায় একজন গাছি, ঘটনার পরপরই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান এবং এখনও তিনি আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন।

যেভাবে ঘটল পাশবিক এই ঘটনা,

ঘটনার দিন দুপুরে শিশুটি তার সমবয়সী এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির পাশের বাগানে নিশ্চিন্তে খেলছিল। সেই ফাঁকে অভিযুক্ত ধর্ষণকারী হারুনুর রশিদ কলা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে নিজের মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর অসহায় শিশুটিকে একা পেয়ে বাড়ির পাশের নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে পাশবিক কায়দায় ধর্ষণ করেন। শিশুটি যন্ত্রণায় কান্নায় ভেঙে পড়লে নরপশু হারুনুর রশিদ তার কোমল মুখ নিষ্ঠুরভাবে চেপে ধরেন এবং গাছ কাটার কাটালি দেখিয়ে মুখ না খোলার হুমকি দেন।

কান্নারত শিশুর মুখেই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ সত্য,

নির্যাতনের পর শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে ফিরে আসে। তার অসহায় চেহারা ও অবিরাম কান্না দেখে বড় বোন সঙ্গে সঙ্গে মাকে ডেকে আনেন। জিজ্ঞেস করলে ভয়ে কাঁপতে থাকা ছোট্ট শিশুটি ধীরে ধীরে পুরো ঘটনা খুলে বলে। বড় বোন জামা সরিয়ে দেখতে পান শিশুর শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

ধর্ষণকারী বাবার সর্বোচ্চ শাস্তি চান নিজের ছেলেই,

পুলিশ অভিযোগ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত ধর্ষণকারী হারুনুর রশিদ ততক্ষণে পালিয়ে যান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের বাড়ি লাকসাম খিলা এলাকায় এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। এই ঘটনায় তার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি মর্মাহত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার বাবার এই জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা জানাই এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করি।”

মামলা দায়ের, গ্রেপ্তারে তৎপর পুলিশ,

বরুড়া থানায় ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানার তদন্ত ওসি সঞ্জয় সরকার এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগে জানান,”থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আহত শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে। পলাতক ধর্ষণকারী হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দল এখন মাঠে রয়েছে। অতিশীঘ্রই তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”

এলাকাজুড়ে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত ধর্ষণকারী হারুনুর রশিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *