মোঃ মনির হোসেন:
চাঁদপুরে আবারও শত্রুতা বশত রোপণকৃত আলু ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ করেছেন এক প্রবাসী। প্রবাসী মিরন হোসেন খান জানান, ইচলী চৌরাস্তার উত্তর পাশে নিজ গাছতলা এলাকায়, চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কের পশ্চিম পাশে তাঁর ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে আলু চাষ করেছিলেন। কিন্তু গত ২৬ জানুয়ারি সোমবার রাতের কোনো এক সময় কে বা কারা তাঁর আলু ক্ষেতের পূর্ব পাশের অংশের সম্পূর্ণ আলু গাছ তুলে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ফরিদগঞ্জের চান্দ্রা এলাকার মদনের গাঁও গ্রামের প্রবাসী মিরন খান ২০০৯ সালে ৯৯ নং নিজ গাছতলা মৌজায় সিএস ৩১, এসএ ২০ ও ২২ নং খতিয়ান, বিএস ৩২৩ এবং ১২২ নং খারিজী খতিয়ান হতে চাপ কবলা দলিল মূলে ১৪ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করে ভোগ দখল করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনকে বর্গা হিসেবে দিয়ে ওই জমি চাষ করাচ্ছেন। ইতিপূর্বে কখনো কোনো সমস্যা না হলেও হঠাৎ গত ২০ জানুয়ারি রাতে একবার এবং গত ২৬ জানুয়ারি সোমবার আবারও কে বা কারা তাঁর সম্পত্তির পূর্ব অংশের জমির সমস্ত আলু নষ্ট করে ফেলে। যার কারণে দরিদ্র চাষি সুলতান গাজীর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।
কৃষক সুলতান গাজী জানান, এই জমি তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছিলেন। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। সোমবার সন্ধ্যায়ও তিনি জমি দেখে গেছেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে এসে দেখেন তাঁর চাষকৃত আলু ক্ষেতের পূর্ব অংশ কে বা কারা নষ্ট করে ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুপুর এলাকার মোঃ রাসেল হোসেন মিজি নামের একজন বিভিন্ন সময় এসে নানা হুমকি-ধমকি দিয়ে গেছেন এবং এই সম্পত্তি তাঁর নিজের বলে দাবি করে গেছেন।
সিএস, বিএস এবং খারিজী সূত্রে যারা এই সম্পত্তি বিক্রয় করেছেন, তাদের পক্ষের আহচান তালুকদার বলেন, “এই সম্পত্তি সিএস, বিএস এবং খারিজী সূত্রে আমাদের। আমরা মিরন খানের কাছে ২০০৯ সালে চাপ কবলা দলিল মূলে এটি বিক্রি করেছি। মিরন খান সেই সময় থেকে এই পর্যন্ত ভোগ দখল করে আছেন। কিন্তু হঠাৎ করে চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুপুর এলাকার রাসেল হোসেন নামের একজন এই সম্পত্তি দাবি করছেন, যা একেবারেই মগের মুল্লুকের মতো ঘটনা।”
নিজ গাছতলা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “আমরা যতটুকু জানি এই সম্পত্তি মিরন খানের এবং ২০০৯ সাল থেকে তিনিই ভোগ দখল করছেন। কিন্তু শহরের বিষ্ণুপুর এলাকার রাসেল নামের একজন হঠাৎ এই সম্পত্তি দাবি করে বসেছেন, যা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।”
বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী মিরন খান বলেন, “আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা, বিদেশে অনেক কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে একটু সুখের আশায় ২০০৯ সালে এই সম্পত্তি ক্রয় করেছি। সেই থেকে অদ্যবধি এই সম্পত্তি আমার ভোগ দখলে আছে। বর্তমানে এই সম্পত্তি আমার নামে খারিজ করা। কিন্তু চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুপুর এলাকার এবং আমার পাশের সম্পত্তির মালিক রাসেল হোসেন মিয়াজি হঠাৎ করে আমার জমির সীমানায় নতুন দেয়াল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়। রাসেল হোসেন মিয়াজি চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নোটিশ করে আমার সম্পত্তির ওপর কাজ করতে নিষেধ করেছেন। এর মধ্যেই রাতের আঁধারে কে বা কারা আমার বর্গা চাষির উঠতি ফসল আলু ক্ষেত নষ্ট করে ফেলেছে, যা খুবই রহস্যজনক।”
প্রবাসী মিরন খান বিশ্বাস করেন, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার মহোদয় উপরোক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে একটি সঠিক ও সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।