শামীম হোসেন সিকদার:
বান্দরবান সদর ইউনিয়নের গোয়ালীখোলা এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ২ প্যাকেজে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি সড়ক ও আরসিসি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে চরম অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক ও আরসিসি রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ হতে না হতেই রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। মূল সড়ক ও আরসিসি রাস্তার কাজে সম্পূর্ণ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের ইট, বালু ব্যবহার করায় সরকারের বিপুল অঙ্কের এই উন্নয়ন প্রকল্প এখন স্থানীয় জনগণের জন্য আশীর্বাদের বদলে চরম অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালীখোলা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য এলজিইডি এই মেগা প্রকল্প হাতে নেয়। কাজটি পান বিতর্কিত ঠিকাদার আজম। তবে শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। নিম্নমানের ইট, বালু এবং পুরাতন ম্যাকাডাম ও নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে রাস্তার কাজ শেষ করা হয়। বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতটাই বেহাল যে, যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয়দের ক্ষোভের চিত্র ফুটে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার আজম প্রভাবশালী হওয়ায় নিয়মের তোয়াক্কা না করেই যেনতেনভাবে কাজ শেষ করে বিল তুলে নিয়েছেন। আরসিসি রাস্তাগুলো নিম্নমানের ইট, সিমেন্ট ও বালু দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
“২৪ কোটি টাকা খরচ করে যদি রাস্তার এই দশা হয়, তবে এই উন্নয়নের নামে আমাদের সাথে মশকরা করা হয়েছে। বর্ষা আসার আগেই যদি রাস্তা ধসে যায়, তবে মূল বর্ষায় আমরা পুরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব।”
এই মেগা প্রকল্পে এত বড় অনিয়ম এবং জনগণের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে এলজিইডির বান্দরবান জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান-এর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোন বাজলেও তিনি রিসিভ করেননি, যার ফলে এই দুর্নীতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত ঠিকাদার আজম-এর সাথেও কথা বলা হলে তিনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান এবং বলেন, “আমি পরে কথা বলবো।” এরপর তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এত বড় প্রকল্পে এমন নিম্নমানের কাজ করা অসম্ভব।
পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল করতে সরকারের কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ কীভাবে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের পকেটে যাচ্ছে—গোয়ালীখোলার এই সড়কটি তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ অবিলম্বে এই প্রকল্পের তদন্ত এবং ঠিকাদার আজমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।