নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি:
ঢাকার মিরপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মগর ইউনিয়নের কাঠিপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নলছিটি থানার এসআই ও ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্বে থাকা নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুর থানার মামলা নং ৬৫/২৪৬৫-এ দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় মারুফ খান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে ওয়ারেন্টের প্রয়োজনীয় নথিপত্র নলছিটি থানায় পাঠানো হলেও এরই মধ্যে প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। তবে এখনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের।
মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারুফ খান নলছিটি উপজেলার ২ নম্বর মগর ইউনিয়নের কাঠিপাড়া গ্রামে নিয়মিত চলাফেরা করছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য তিনি একাধিকবার ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্বে থাকা এসআই নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি আসামির অবস্থান সম্পর্কেও পুলিশকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে বাদীর অভিযোগ।
বাদীপক্ষের দাবি, গত বুধবার মারুফ খান নলছিটির বহরমপুর ফেরিঘাট এলাকায় প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে এসআই নাসির উদ্দিনকে জানানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন তিনি বাদীপক্ষকে বলেন, ‘আপনি ধরে আমাকে জানান।’ পুলিশের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য পাওয়ায় বাদীপক্ষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার না করার পেছনে আর্থিক লেনদেনের বিষয় থাকতে পারে। ওই সূত্রের অভিযোগ, মারুফ খান এসআই নাসির উদ্দিনকে ঘুষ দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এসআই নাসির উদ্দিন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই নাসির উদ্দিন ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান বলেন, আদালতের ওয়ারেন্ট জারির পরও একজন আসামি এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশকে একাধিকবার আসামির অবস্থান জানানো হলেও তাকে গ্রেপ্তার না করায় তিনি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ এবং আদালতের ওয়ারেন্ট যথাযথভাবে তামিলের দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী।