আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তুরস্কের ফুটবল রেফারি সংক্রান্ত একটি তদন্তে দেশটির কেন্দ্রীয় রেফারি কমিটির (এমএইচকে) প্রধান ফেরহাত গুনদোগদুসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সরকারি নথি জালিয়াতি, আস্থাভঙ্গ, ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ইস্তাম্বুলের চাগলায়ান আদালতে মোট সাত সন্দেহভাজনের বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে এমএইচকে প্রধান ফেরহাত গুনদোগদু, তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশনের সক্রিয় রেফারি সমিতির সভাপতি ফেরদি কারাদোরুক, সাবেক এমএইচকে সদস্য ইউনুস ইলদিরিম, তুরস্কের রেফারি ও পর্যবেক্ষক সমিতির ইস্তাম্বুল শাখার কর্মকর্তা আলিচান সাগলার এবং ইস্তাম্বুল প্রাদেশিক রেফারি কমিটির সভাপতি এমরে কোসিফকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্য দুই সন্দেহভাজন সেবাহাত্তিন শাহিন ও আহমেত শাহিনকে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং নিয়মিত স্বাক্ষরের মতো বিচারিক নিয়ন্ত্রণের শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, রেফারি প্রশাসনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে রেফারিদের শ্রেণিবিন্যাস, নিয়োগ, নম্বর প্রদান ও পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ এর আগে তুরস্কের সুপার লিগের রেফারি ইয়াসিন কোল ও সহকারী রেফারি গোকতুঘ হাজারারেলকেও আটক করে।
এর আগে তদন্তের অংশ হিসেবে তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশনের (টিএফএফ) সদর দপ্তরের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর কক্ষেও তল্লাশি চালানো হয়। রেফারি ও পর্যবেক্ষকদের সংগঠনের কার্যালয় থেকেও পরীক্ষার নথি, আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় তুরস্কের ফুটবলে চলমান দুর্নীতি ও বাজি-সংক্রান্ত তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এর আগে টিএফএফ ১৪৯ জন রেফারিকে বাজি-সংক্রান্ত ঘটনায় সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল। একই ধারাবাহিকতায় চলমান তদন্তে আরও কর্মকর্তা ও রেফারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।