নিজস্ব প্রতিবেদক:
কেরানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আপন আহমেদের জীবন কেটেছে দীর্ঘ ১৬ বছরের নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে। কখনো প্রকাশ্যে, কখনো নীরবে—নির্যাতনের ছাপ বহন করে চলেছেন তিনি আজও।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিকভাবে জানা যায়, রাজনৈতিক চাপ ও হয়রানির কারণে কয়েক বছর নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন মোহাম্মদ আপন আহমেদ। স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন। তবুও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে যাননি তিনি।
সবচেয়ে ভয়াবহ সময় আসে ৫ আগস্ট। সেদিন তার ওপর সংঘটিত হয় গুরুতর নির্যাতন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ওই দিন পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ। ওই ঘটনার পর থেকেই তার নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার ও সহকর্মীদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
এর আগেও কেরানীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি দিন আজও দগদগে ক্ষত হয়ে আছে—২৮ অক্টোবর। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে দিনটি একটি “দুঃখজনক ও ভয়াবহ দিন” হিসেবে চিহ্নিত। অভিযোগ রয়েছে, সেদিন কেরানীগঞ্জের মাটি ও মানুষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিএনপি নেতা আহমেদ আপনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার অপরাধ ছিল—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতি তার প্রকাশ্য ভালোবাসা ও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বলা হয়, বহু সংঘাত ও চাপের মধ্য দিয়েও আহমেদ আপন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। সেই দিনের স্মৃতি আজও নেতাকর্মীদের মনে তীব্র বেদনা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। তারা মনে করেন, ২৮ অক্টোবর কেবল একটি তারিখ নয়—এটি কেরানীগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়।
মোহাম্মদ আপন আহমেদ বর্তমানে কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা আহমেদ নগরে নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে তিনি এখনও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন। তবে দীর্ঘদিনের নির্যাতন, কারাবরণ ও নিরাপত্তাহীনতার অভিজ্ঞতা তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেরানীগঞ্জে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, এ ধরনের নির্যাতনের ইতিহাস বারবার ফিরে আসবে—নতুন নাম, নতুন মুখ নিয়ে।