আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ভেসে এসেছে অস্বাভাবিক আকারের বড় বড় মাছ। গত বুধবারের ওই বন্যার পানিতে ভেসে আসা মাছগুলো স্থানীয় অনেক মানুষকে ধরতে দেখা গেছে। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে এসব মাছ ভারতের বিহার রাজ্যেও পৌঁছেছে।
বিহারের বিভিন্ন এলাকায় ভেসে আসা এসব মাছ অনেকে ধরছেন, খাচ্ছেন এবং বাজারে বিক্রিও করছেন। এ পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক আকারের এসব মাছ খাওয়া ও বিক্রি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিহার সরকার।
গত সোমবার জননিরাপত্তাবিষয়ক এক সতর্কবার্তায় বিহার সরকারের ডেইরি বিভাগের মৎস্য শাখা জানিয়েছে, বন্যার পানিতে ভেসে আসা মাছ খাওয়ার পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে তাদের কাছে খবর এসেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যার পানির স্রোতে পুকুর, নদী, লেকসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে মাছ ভেসে যেতে পারে। এমনকি এসব মাছ বন্যার পানির সঙ্গে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অন্য এলাকাতেও পৌঁছাতে পারে। এ সময় মাছগুলো দূষিত ড্রেন, মৃত প্রাণী এবং অন্যান্য ক্ষতিকর ও বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসতে পারে। ফলে মাছের শরীরে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই অপরিচিত বা অস্বাভাবিক এসব মাছ পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে সরাসরি বন্যার পানি থেকে মাছ ধরার বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করেছে বিহার সরকার।
এদিকে, বিহারের গন্ধক নদীতে বন্যার পর থেকেই বড় আকারের বিভিন্ন মাছ দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বড় আকারের মাগুর মাছও রয়েছে।
ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার পরিচালক সমীর কুমার সিনহা সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, বিহারে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে মাগুর মাছ। ভারতে এই মাছ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে মাছ মারা যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই পচন শুরু হতে পারে। তাই বন্যার পানিতে ভেসে আসা মাছ খাওয়ার আগে সেটি পচে গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
কর্তৃপক্ষের মতে, বন্যার পানি থেকে ধরা মাছের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তা খাওয়া বা বাজারজাত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।