আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের সামরিক কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির সংসদে পাস হওয়া নতুন আইনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে সেনাপ্রধানের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিন বাহিনীর ওপর সরাসরি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ‘পাকিস্তান ডিফেন্স ফোর্সেস অ্যাক্ট, ২০২৬’ এবং ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট’-এর সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে গত বছর গঠিত ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) পদটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে।
আইন দুটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পাস করা হয়। ওই দিন সকালে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংসদে বিল দুটি পাস হয়। ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর পাকিস্তানের সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ আরও জোরদার হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে
১৯৭৬ সালের পর পাকিস্তানের উচ্চ সামরিক কমান্ড কাঠামোয় এটিকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ‘জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান’ (সিজেসিএসসি) পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
এর পরিবর্তে গঠন করা হয়েছে ‘ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স’। এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পাকিস্তানের বর্তমান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
আগের কাঠামোয় সিজেসিএসসি চেয়ারম্যান মূলত তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন। নৌ ও বিমান বাহিনীর ওপর তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। নতুন আইনে সিডিএফকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ওপর সরাসরি ‘অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ’ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ তিন বাহিনীর সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সিডিএফের ক্ষমতা থাকবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এসব বিষয়ে তাকে সরাসরি সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
পারমাণবিক কমান্ডেও পরিবর্তন
নতুন আইনে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রসংক্রান্ত কমান্ডের প্রধান পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে এই পদটি শুধু সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাই পূরণ করতে পারবেন। এতে নৌ ও বিমান বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদে যাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এ ছাড়া সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত বা অবসরে পাঠানোর ক্ষমতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে এ ধরনের সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার ভূমিকা থাকলেও নতুন আইনে সিডিএফকে এককভাবে এ ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ফলে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ওপর নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে কি না, তা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নতুন কাঠামোর ফলে পাকিস্তানের তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর হতে পারে। তবে একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রভাব ও ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।