বার আউলিয়ার পন্যভূমি চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী নেই মাজার সফরসূচি,সুফীবাদি সমর্থকদের অসন্তুোষ

কামরুল ইসলাম: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম জেলা সফরের নির্ধারিত কর্মসূচি দিয়েছে। সেখানে হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ, মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফী-র কবর জিয়ারত এবং হাটহাজারী মাদ্রাসা সফরের বিষয়টি রয়েছে।

কিন্তু দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ও সুপরিচিত প্রসিদ্ধ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ সফরের কোনো কর্মসূচি চোখে পড়ল না।

প্রশ্ন থেকেই যায়—বাংলাদেশের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠান কি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য নয়?

বাংলাদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্ব ও মূল্যায়ন পেয়ে থাকেন। অথচ বাংলাদেশের বিশাল শান্তিপ্রিয় সুফিবাদী জনগোষ্ঠী বারবার নিজেদের অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার বলে অনুভব করে।

আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, যাঁরা শতাব্দীর পর শতাব্দী এ দেশে ইসলামের দাওয়াত, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক চর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, সেই আলেম-আউলিয়াদের বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন ও মাজারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রত্যাশিত কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ দেখা যায়নি—এমন অনুভূতি সমাজের একটি অংশের মধ্যে রয়েছে।

শান্তিপ্রিয় সুফিবাদী জনগোষ্ঠীরও সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ, সচেতন এবং সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে আরও সুসংগঠিতভাবে ভাবার।

এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা নয়, বরং রাষ্ট্রের কাছে সকল ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ধারার প্রতি সমান সম্মান, সমান মূল্যায়ন এবং বৈষম্যহীন আচরণের প্রত্যাশা। একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে কোনো জনগোষ্ঠী যেন নিজেকে অবহেলিত বা উপেক্ষিত মনে না করে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফরসূচিতে মাইজভাণ্ডার শরীফ বাদ পড়াটা চট্টগ্রামের জন্য দুর্ভাগ্য বলে মনে করছেন সুন্নি মুসলমানগণ। এতে সুফিপন্থী সাধারণ মানুষের কাছে ভূল বার্তা যাবে। আর ফটিকছড়ি গিয়ে মাইজভাণ্ডার শরীফ না যাওয়াটাতে আদবের খেলাফ হবে।

১৯৯১ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে এসেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি ছিল তার প্রথম মেয়াদকালীন সময়ের (১৯৯১-১৯৯৬) একটি সফর। ওই সময় তিনি দরবার শরীফ জিয়ারত করেন এবং সেখানকার মুরুব্বিদের সাথে সাক্ষাৎ করে মোনাজাতে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, পুরা বিশ্বে বারো আউলিয়ার পূণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম। সেই চট্টগ্রাম এসে প্রধানমন্ত্রী যদি একটি অধ্যাত্মিক দরবারে না যান তাহলে চট্টগ্রামে সুফীবাদী মুসলিমের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে।

নিঃসন্দেহে মাইজভাণ্ডার শরীফ আধ্যাত্মিকতার রাজধানী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *