মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি বাব ও মেয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী সানজিদা সুলতানা আশা (২৯) এবং তার বাবা জাহাঙ্গীর বেপারী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদেশে কাজ দেওয়ার কথা বলে অর্থ গ্রহণ করে প্রতারণা করেছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে বলা হয় যে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। পরে চাকরি না দিয়ে নানা টালবাহানা শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শাওন পরিবারের অভিযোগে বলা হয়, নিকট আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে মোট ৫ লক্ষ ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য। পরে বিদেশে পাঠানো হলেও তাকে কোনো নির্দিষ্ট চাকরি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়। বরং তাকে এক রুমে অন্যদের সঙ্গে আটকে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি জানালে বিভিন্ন অজুহাত দেওয়া হয় বলে পরিবার অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয় বলে জানা গেছে।
পরে ভুক্তভোগীরা বাধ্য হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্তের অনুরোধ জানান। থানা থেকে উভয় পক্ষকে ডেকে নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং দুই মাসের মধ্যে টাকা ফেরত ও চাকরির ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পরবর্তীতে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তারা মনে করেন অনেক অসহায় পরিবার দ্রুত অর্থের আশায় এসব দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে যায়। এ ধরনের ঘটনায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি পর্যায়ে কঠোর আইন প্রয়োগের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও সাহস পাচ্ছে। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীরা আশা প্রকাশ করেছেন দ্রুত তদন্ত শেষ করে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থ ফেরত এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ ধরনের প্রতারণা রোধে প্রবাসী শ্রমবাজার বিষয়ে সচেতনতা ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তারা আরও বলেন ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পারলে এমন অপরাধ কমবে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার পুনরায় প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।
এছাড়া তারা দাবি করেছেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের প্রতারণা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। স্থানীয়রা আশা করছে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবে এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেছেন। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।