আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি আটকা পড়া ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারের ৪০ অসুস্থ নাবিককে চিকিৎসার জন্য দেশটিতে নেওয়া হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়ে শ্রীলঙ্কা সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কয়েকটি ইরানি ট্যাংকার শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে নোঙর করে আছে। এসব জাহাজের অন্তত ৪০ জন নাবিক জরুরি চিকিৎসার জন্য শ্রীলঙ্কায় আসার আবেদন জানান।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত গাল বন্দরে তাঁদের নিয়ে আসা হয়।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তুষারা রদ্রিগো বলেন, নাবিকদের স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সমন্বয় করে সরকার তার মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। তাঁদের স্থানান্তর ও চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করবে ইরানি দূতাবাস।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, গাল বন্দরের কাছাকাছি প্রায় এক ডজন খালি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার নোঙর করে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের কারণে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ নিজ দেশে ফিরতে না পেরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করায় সেখানে তাদের অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে। তবে দেশটির এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, শ্রীলঙ্কার ১২ নটিক্যাল মাইল জলসীমার বাইরে থাকা জাহাজগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে নজরদারি বিমান ও টহল নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে গত মার্চে শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের ‘আইআরআইএস ডেনা’ নামের একটি ফ্রিগেট ডুবে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিনের হামলায় জাহাজটি ডুবে গেলে ১০৪ জন নাবিক নিহত হন। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ওই জাহাজ থেকে ৩২ জন ইরানি নাবিককে জীবিত উদ্ধার করেছিল।
এ ছাড়া ইরানের আরেকটি নৌযান শ্রীলঙ্কার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ত্রিনকোমালি বন্দরে নিরাপদ আশ্রয় চেয়েছে।
শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ পূর্ব দিকে মালাক্কা প্রণালী ও সিঙ্গাপুরের দিকে চলে গেছে। তবে কিছু জাহাজ এখনো শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।