বিনোদন ডেস্ক:
মৃত্যুর পর দাহ বা সমাহিত হওয়ার পরিবর্তে নিজের দেহকে জৈব সারে (কম্পোস্ট) পরিণত করতে চান হলিউডের স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী কিম নোভাক। সেই জৈব সার ব্যবহার করে গাছ লাগানো হবে, যাতে মৃত্যুর পরও প্রকৃতির অংশ হয়ে বেঁচে থাকতে পারেন তিনি। ৯৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, নিজের শেষকৃত্যের জন্য এ ব্যবস্থা আগেই করে রেখেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে কিম নোভাক বলেন, মৃত্যুর পর গাছের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার ভাবনাটি তাঁর কাছে রোমাঞ্চকর। তিনি চান, তাঁর জীবন শেষ হলেও প্রকৃতির মধ্যে বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া যেন অব্যাহত থাকে।
নিজের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় অভিনেত্রী বলেন, জীবনে তাঁর ধৈর্যের অভাব ছিল বলে মনে করেন তিনি। গাছের ধীরস্থিরভাবে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে নিজেকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ দেখেন তিনি। তাঁর মতে, গাছের মধ্য দিয়ে নিজের অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটানো এবং জীবনের নানা রূপের সাক্ষী হয়ে থাকার ধারণাটি তাঁকে প্রশান্তি দেয়।
কিম নোভাকের কাছে মৃত্যুর পর মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার ধারণাটি অত্যন্ত সুন্দর। তাঁর ভাষ্য, কম্পোস্ট গাছপালার বেড়ে উঠতে সহায়তা করে। তাই এই প্রক্রিয়াকে তিনি প্রাকৃতিক, বাস্তব ও বিশুদ্ধ বলে মনে করেন।
নিজের দেহকে কম্পোস্টে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ‘আর্থ ফিউনারেল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবস্থা করেছেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর পর কম্পোস্ট তৈরির প্রক্রিয়ার আগে তাঁর দেহ হিমায়িত করে রাখা হবে। বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে স্বজন ও বন্ধুদেরও জানিয়ে রেখেছেন।
কিম নোভাক তাঁদের প্রত্যেককে একটি করে গাছ বা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ লাগানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে গাছ লাগানোই তাঁর বেশি পছন্দ। কারণ, তাঁর কাছে জীবনের মূল তাৎপর্য হলো বেড়ে চলা। মৃত্যুর পরও সেই বেড়ে ওঠা অব্যাহত থাকুক—এমনটাই তাঁর ইচ্ছা।
উল্লেখ্য, ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বক্স অফিসের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা ছিলেন কিম নোভাক। ১৯৬৬ সালে হলিউডের রুপালি পর্দা থেকে সরে এসে ব্যক্তিগত জীবনে মনোযোগী হন তিনি। পরবর্তী সময়ে ছবি আঁকাকে নিজের ভাবনা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। চলচ্চিত্রের পরিচয়ের বাইরেও নিজের অস্তিত্বকে প্রকাশ করতে চান এই অভিনেত্রী। মৃত্যুর পর প্রকৃতির অংশ হয়ে থাকার পরিকল্পনাকেও তিনি সেই ভাবনারই একটি প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।