মোঃআনজার শাহ :
দেশের মানুষের প্রতিটি ভালো অর্জনকে সরকার স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।”
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের বৃহস্পতিবার সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এই অর্জন গোটা জাতির, শুধু ব্যক্তিগত নয়:
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন নয়। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।” তাঁর এই বক্তব্যে ফুটে ওঠে একটি জাতীয় গর্বের অনুভূতি যেখানে কয়েকজন হাফেজের ব্যক্তিগত সাফল্য মিলে যায় গোটা দেশের সম্মিলিত অর্জনের সঙ্গে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান বয়ে আনুক দেশের সন্তানেরা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা এ রকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক।”
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় সরকার এমন প্রত্যয়ের কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সবাইকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই।”
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের হাফেজদের গৌরবময় সাফল্য:
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ওই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজরা অসাধারণ কৃতিত্ব দেখান। হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে অর্জন করেন প্রথম স্থান। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে হন তৃতীয়।
এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে অর্জন করেন তৃতীয় স্থান। বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এই সাফল্য নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত, যা দেশের কোরআন শিক্ষা ও চর্চার মানকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে নতুন করে।