আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দুই দফা বিমান হামলা থেকে বেঁচে ফিরেছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির বিশেষজ্ঞ সভার সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহসেন হেইদারি আলেকাসির।
কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেইদারি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তেহরানের কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সময় মোজতবা খামেনি আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হেইদারির ভাষ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির চিকিৎসা চলাকালেই তেহরানের তিনটি হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে তৃতীয় হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন মোজতবা। হামলায় হাসপাতালটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে অজ্ঞাত একটি স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর থেকে মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা তথ্য সামনে এসেছে। তবে এসব তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে উদ্ধারের দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিও আগে থেকে জানতেন না বলে দাবি করেছেন হেইদারি। তার ভাষ্য, বিশেষজ্ঞ সভার সদস্যরা তাকে নির্বাচিত করার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা প্রচারের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।
হেইদারির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ সভার ভোটে মোজতবা খামেনি ৫৯ ভোটের মধ্যে ৫০টি পান। আটজন সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফির পক্ষে ভোট দেন এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। বিভিন্ন মার্কিন সূত্রে তার গুরুতর আহত হওয়ার কথা বলা হলেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি দাবি করেছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।
মোজতবা খামেনির অবস্থান এখনো প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়। তবে তার বিষয়ে ইরানের একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতার দেওয়া নতুন এই বক্তব্যের পর ফেব্রুয়ারির হামলায় তিনি কীভাবে বেঁচে যান, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।