লক্ষ্মীপুরে শালিশ বাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেইলিং, যুবক নির্যাতন ও সাংবাদিক হেনস্তা

উম্মে হানি মায়া:

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২০ নম্বর চর রমনী মোহন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও গ্রাম আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য নয়ন মেম্বারের বিরুদ্ধে শালিশ বাণিজ্য, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইলিং এবং সাংবাদিক হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৪ নম্বর চর রুহিতা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোলেমানকে ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে হত্যার হুমকি এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয় নয়ন মেম্বারের দ্বারা। ভুক্তভোগীর বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা নয়ন মেম্বারের কাছে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এ সময় নয়ন মেম্বার তার অনুসারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের ক্যামেরা, মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন মহলের দাবি, নয়ন মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে চর রমনী মোহন ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের বিচার প্রক্রিয়াকে পুঁজি করে শালিশ বাণিজ্যে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার সহজ-সরল ও অর্ধ-সচেতন মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি বিচার নামে অর্থ আদায় করেন।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলন ও ঘাট দখল, জমি দখল, গরু, হাঁস-মুরগি ও ছাগল ছিনতাই, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে এর আগেও বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও মাল্টিমিডিয়া সংবাদ মাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, নয়ন মেম্বার বিএনপির রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব অনৈতিক ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

লক্ষ্মীপুর জেলার এসপি ও জেলা প্রশাসককে পপার্স লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশন-এর পক্ষ থেকে নয়ন মেম্বারের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন সাংবাদিক ও সংগঠন নেতা সুলতান মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *