সাদিয়া জাহান:
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার পাগলার বৃহত্তর রসুলপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের অভিযোগ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকাজুড়ে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে হযরত গাজী।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফোন কলে নিজেকে “হযরত” পরিচয়ে পরিচয় দেন এবং যুবদলের সভাপতি মাসুম আহাম্মেদ রাজকে তাঁর চাচাতো ভাই দাবি করে সেই পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রসুলপুরে নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ, জমি ক্রয়-বিক্রয় কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে হলে হযরত গাজী ও মাসুম আহাম্মেদ রাজকে চাঁদা দিতে চাপ দেওয়া হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা ধরনের হয়রানি, বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হতে হয়। এ বিষয়ে পুলিশ নীরব ভূমিকা রাখায় সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে উক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের নিকট।
সর্বশেষ ইট, সিমেন্ট, রড ও বালুর ব্যবসায়ী আল-আমিনের ওপর হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় হযরত গাজী ও তাঁর সহযোগীরা আল-আমিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে মারধর, দোকান ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ লুটপাট করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, বিএনপি এখনো ক্ষমতায় না থাকলেও যুবদল নেতা মাসুম আহাম্মেদ রাজ ও হযরত গাজীর কথিত কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী ইতোমধ্যেই অতিষ্ঠ। অভিযোগ রয়েছে, দুই ভাই মিলে জায়গা-জমি দখল, চাঁদাবাজি, জুয়ার আসর, এলাকায় গ্যাস সিন্ডিকেট এবং মাদক ব্যবসাসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালাচ্ছে। তাদের পেছনে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও শেল্টারের সমর্থন থাকার কারণে তারা এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছে।
এলাকাবাসীর শঙ্কা, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটলে এই প্রতিহিংসা ও নির্যাতন আরও বেড়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করবে। তাই রসুলপুরবাসীর জোর দাবি, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের এসব অভিযোগের অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়ের স্বার্থে সাধারণ মানুষের ওপর চলমান এই প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।