কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে লোহাগাড়া সমিতি চট্টগ্রাম। সংগঠনটির উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত ২০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও ঢেউ টিন বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৩টায় লোহাগাড়া উপজেলার বার আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণসামগ্রী ও ঢেউ টিন তুলে দেওয়া হয়। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির মালিকদের যাচাই-বাছাই শেষে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপকারভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের ফটোকপি নিয়ে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সুশৃঙ্খল পরিবেশে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণ ও ঢেউ টিন হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া সমিতি চট্টগ্রামের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রভাবশালী সদস্য ও লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন চৌধুরী সোহেল, লোহাগাড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী (শাওন), লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রভাবশালী সদস্য ফজলুল কবির (ফজলু), লোহাগাড়া উপজেলা ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার কোম্পানি, লোহাগাড়া উপজেলা ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির পরিচালক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম সিকদার, তৈহিদুল ইসলাম তৈহিদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় লোহাগাড়ার বহু পরিবার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। অনেকের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। লোহাগাড়া সমিতি চট্টগ্রাম ভবিষ্যতেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে তারা আশ্বাস দেন।
লোহাগাড়া সমিতি চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ এ মানবিক কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদানকারী সকল দাতা, শুভানুধ্যায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে বন্যাদুর্গত মানুষের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মহান আল্লাহ তাআলার নিকট সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কষ্ট লাঘব, দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এবং এ মানবিক উদ্যোগ কবুল করার জন্য প্রার্থনা করা হয়।