রুবেল হোসেন(কুমিল্লা)
শৈশবের সোনালি দিন, প্রথম অক্ষর শেখার স্মৃতি আর স্বপ্ন দেখার প্রথম পাঠ সবকিছুর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জীবনের পথচলায় মানুষ যত দূরেই এগিয়ে যাক না কেন, শৈশবের চেনা আঙিনা, শিক্ষকদের স্নেহ আর সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো হৃদয়ের গভীরে অমলিন হয়ে থাকে। সেই শিকড়ের টানেই নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত আল-আমিন কিন্ডার গার্টেনে ফিরে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাজিরুল ইসলাম।
প্রিয় বিদ্যালয়ে ফিরে তিনি শুধু অতীতের স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া, স্বপ্ন দেখা এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার প্রেরণা জোগান। তাঁর কাছে এই ফিরে আসা শৈশবের স্মৃতি নতুন করে অনুভব করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ববোধ প্রকাশেরও এক আন্তরিক উপলক্ষ।
তাজিরুল ইসলাম মনে করেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির কর্ণধার। তাদের চোখে লালিত স্বপ্নগুলো একদিন বাস্তবে রূপ নেবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তারা নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে এমন প্রত্যাশাই তাঁর হৃদয়ে গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছে।
তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বিতরণের কেন্দ্র নয়; বরং মানুষের চিন্তা, চরিত্র, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। শৈশবে যে প্রতিষ্ঠান একজন শিক্ষার্থীর মনে স্বপ্নের বীজ বপন করে, জীবনের নানা পর্যায়ে সেই প্রতিষ্ঠানের অবদান তাকে পথ দেখায়।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তাজিরুল ইসলাম বলেন, জীবনের পথ যত দীর্ঘই হোক, শৈশবের প্রিয় বিদ্যালয়কে কখনো ভোলা যায় না। জীবনের অর্জন ও অগ্রযাত্রার পেছনে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে, তার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা সব সময় অটুট থাকে।
তিনি মনে করেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের সম্পর্ক কেবল অতীতের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং তাঁরা বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা, পরামর্শ ও কল্যাণের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। এক প্রজন্মের অভিজ্ঞতা যখন পরবর্তী প্রজন্মের স্বপ্নকে ছুঁয়ে যায়, তখনই শিক্ষাঙ্গনের সম্পর্ক আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
প্রিয় বিদ্যালয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা জানিয়ে তাজিরুল ইসলাম আল-আমিন কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য দোয়া ও শুভকামনা প্রকাশ করেন। তিনি প্রত্যাশা করেন, প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক এবং তারা যোগ্য, সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।
তাঁর এই অনুভূতি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের শৈশবের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিরন্তন সম্পর্ককেই নতুন করে তুলে ধরে। সময়ের পরিবর্তনে মানুষের পরিচয়, অবস্থান ও কর্মপরিধি বদলে গেলেও শৈশবের শিক্ষাঙ্গনের প্রতি ভালোবাসা কখনো ম্লান হয় না। বরং সেই স্মৃতি মানুষকে নিজের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, জাগিয়ে তোলে কৃতজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক কিছু করার অনুপ্রেরণা।
শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি শিশুর জীবন, স্বপ্ন ও সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ হোক আগামী দিনের বাংলাদেশ প্রিয় আল-আমিন কিন্ডার গার্টেনের প্রতি প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাজিরুল ইসলামের ভালোবাসা ও শুভকামনায় ফুটে উঠেছে সেই প্রত্যাশাই।