অভিজাত এলাকার ভবনে পয়োনিষ্কাশন যাচাইয়ে মাঠে নামছে রাজউক!

 

মোঃআনজার শাহ

রাজধানীর অভিজাত চার এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের ভবনগুলোর পয়োনিষ্কাশন সংযোগ লাইন ও লাইন ব্যবস্থা যাচাই করতে এবার মাঠে নামছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ লক্ষ্যে ৯ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সরেজমিন পরিদর্শন করে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

রাজউক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কেন এই উদ্যোগ,রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত ও অননুমোদিত পয়োনিষ্কাশন সংযোগের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ভবনে নিয়মানুযায়ী সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি), সেপটিক ট্যাংক বা সোয়াক ওয়েলের ব্যবস্থা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে পয়োবর্জ্য সরাসরি ড্রেনেজ লাইনে মিশে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এই অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেই রাজউকের এই বিশেষ উদ্যোগ।

কমিটি গঠন ও দায়িত্ব,রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) শীলাব্রত কর্মকার একটি অফিস আদেশ জারি করে এই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো যাচাই করবে, ভবনগুলোতে এসটিপি, সেপটিক ট্যাংক ও সোয়াক ওয়েলের ব্যবস্থা আছে কি না তা পরীক্ষা করা।** পাশাপাশি সেপটিক ট্যাংক ও পয়োনিষ্কাশন লাইন সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংযোগস্থল যাচাই করা এবং সামগ্রিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা।

কমিটির কাঠামো,

৯ সদস্যের এই কমিটিতে,আহ্বায়ক  হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এবং সদস্য সচিব  হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রাজউকের জোন-৪-এর পরিচালক।

কমিটির অন্যান্য সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে ঢাকা ওয়াসার প্রতিনিধি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রতিনিধি, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটির সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক এবং রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১)।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসন ঢাকা-১৭-এর প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানী এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ কমিটির উপদেষ্টা  হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

২৫ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ,

অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটিকে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন সম্পন্ন করে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে রাজউক সূত্রে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা,

নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজউকের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত জরুরি। তবে শুধু তদন্ত ও প্রতিবেদনেই যেন সীমাবদ্ধ না থাকে  অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেই কেবল এই উদ্যোগ অর্থবহ হবে। অন্যথায় এটিও আগের মতো কাগুজে অনুশীলনে পরিণত হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

রাজধানীর পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে রাজউকের এই পদক্ষেপ কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *