মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
র্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা সাক্ষরতার গুরুত্ব, শিক্ষার প্রসার এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের বিভিন্ন বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করেন। পরে র্যালিটি পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়। এটি মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, সচেতনতা, আত্মনির্ভরতা এবং জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। একজন মানুষকে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে সাক্ষরতার গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শুধু প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই হবে না; সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, পরিবেশসহ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষকে আরও সচেতন ও সক্ষম করে তুলতে হবে।
জেলা প্রশাসক দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে সকলের জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত ও সচেতন করে গড়ে তোলা। সাক্ষরতার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
তারা আরও বলেন, দেশে সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও এখনো অনেক মানুষ শিক্ষা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা দেশে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের লক্ষ্যে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জন সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সাক্ষরতা মানুষের মৌলিক সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি তাকে আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনে সহায়তা করে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যারা বিভিন্ন কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়েছে, তাদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে সাক্ষরতার গুরুত্ব এবং সবার জন্য শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিরক্ষরতা দূর করে একটি দক্ষ, সচেতন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।