মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী দলকে মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
সাপ্তাহিক কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা, আশপাশের এলাকা এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোথাও পানি জমে আছে কি না, মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে কি না—এসব বিষয় চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বিশেষ কর্মসূচির আওতায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ১১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হয়েছে। এসব দলের সদস্যরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সহপাঠী ও আশপাশের মানুষকে পরিচ্ছন্নতা এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতন করার কাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পরিচালিত এ কার্যক্রমে বিদ্যালয়ের মাঠ, শ্রেণিকক্ষের আশপাশ, ড্রেন, নালা, ঝোপঝাড় ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিত্যক্ত পাত্র, টব, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতলসহ যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে মশার লার্ভা জন্মাতে পারে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে শুধু ওষুধ বা মশা নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এবং প্রতি বৃহস্পতিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নির্ধারিত দিনে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার বার্তা পরিবার ও সমাজের অন্যান্য সদস্যদের কাছেও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ফলে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে বৃহত্তর সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যতে তারা সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদের পাশাপাশি সমাজকেও পরিচ্ছন্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। এ কারণে শুধু বিদ্যালয়ের আঙিনা পরিষ্কার করাই নয়, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করা, পানি জমতে না দেওয়া এবং পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অন্যদের সচেতন করাকেও কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিয়মিত এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম একসময় বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে পরিবার, পাড়া-মহল্লা ও পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরি হবে।