কক্সবাজার ও রামুতে মাটি কাটার মহোৎসব, প্রশাসনের চোখে নীল চশমা?

আব্দুল আল নোমান: 

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় প্রকাশ্যে চলছে অবাধ মাটি কাটার মহোৎসব। অজ্ঞাত কারণে উপজেলা প্রশাসনের চোখে যেন নীল চশমা পড়ে আছে—এমন অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা, কাউয়ারখোপ, উখিয়ারগুনা, কুনিয়াপালনসহ বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি ধ্বংস করে দিনের পর দিন কাটা হচ্ছে উত্তম শ্রেণির কৃষি মাটি। গভীর রাত থেকে শুরু করে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড।

সূত্র বলছে, এই মাটি কাটার পেছনে রয়েছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ও মাঠে সক্রিয় সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে—এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত আছে পলাতক সরকারের আওয়ামী ঘরানার কিছু দোসর। তারা গোপনে এসিল্যান্ড ও ইউএনও কার্যালয়ের একাংশকে ‘হাত করে’ এই অবৈধ মাটি বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।

ফলে হাজার হাজার একর ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকরা হারাচ্ছেন তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। ধান, সবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসল উৎপাদনের জমি পরিণত হচ্ছে গর্ত ও খাদে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ ও সম্প্রচার হলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা, নেই জরিমানা কিংবা জব্দের দৃশ্যমান উদ্যোগ।

এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ হতো, তাহলে এত বড় মাটি কাটার মহোৎসব একদিনও চলতে পারত না। মনে হচ্ছে, সবাই সব জেনেও না দেখার ভান করছে।”

সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, জড়িত সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় রামুর কৃষি ও পরিবেশ ধ্বংসের দায় এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *