কমিটি নিয়ে নোয়াখালীতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:

নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত অশ্বদিয়া ইউনিয়নের দিদিমণি বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা পর্যন্ত থেমে থেমে এ সংঘর্ষ চলে। আহতদের নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, গত মঙ্গলবার সদর উপজেলা ছাত্রদল অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। এতে ইয়াছিন আলমকে আহ্বায়ক এবং আব্দুল্লাহ আল বিন মাহিদকে সদস্যসচিব করা হয়।

কমিটি ঘোষণার পর পদ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন সাগর ও তার অনুসারীরা। তারা নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক ইয়াছিন আলম, সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল বিন মাহিদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুমুর রহমান অভিযোগ করেন, আনন্দ মিছিল বানচাল করতে পদবঞ্চিত একটি পক্ষ বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালায়। এতে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে পছন্দের লোকজনকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ করছিলেন। তাদের ওপরই আগে হামলা চালানো হয়েছে।

সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক করিম উদ্দিন বলেন, কমিটি গঠনে কোনো অনিয়ম হয়নি। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। নতুন কমিটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে।

সংঘর্ষের কারণে কিছু সময়ের জন্য সোনাপুর-কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জগামী সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ ও সুধারাম থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *