আব্দুল আজিজ:
সাতকানিয়ায় মিনিবাসের সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জন। সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মোটরসাইকেল থেকে তেল বের করে আগুন দিয়ে ঘাতক বাসটি জ্বালিয়ে দেয়।
সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা। ফলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুটের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ ও সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ধাওয়া করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার মলভীর দোকানের দক্ষিণে সিএনজি পাম্পসংলগ্ন পাঠানিপুলের উত্তর পাশে ঈগল বাসের ধাক্কায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের কাঠগড় ২ নম্বর ওয়ার্ডের শাইরের বরবাড়ির আবদুস সাত্তারের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও তাঁর মেয়ে ওয়াসিফা জান্নাত (২)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশের পাঠানিপুলের উত্তর পাশে চট্টগ্রামমুখী দ্রুতগতির একটি মিনিবাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর মেয়ে ওয়াসিফা জান্নাতকে কেরানীহাটের পৃথক দুটি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বাবা-মেয়ের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া দেলোয়ারের স্ত্রীসহ মলভীর দোকানের মুক্তার, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানসহ ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে আহত মলভীর দোকানের মুক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিএনজিতে থাকা দুই পরিবারের যাত্রী এবং নিজের স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তাঁরা। পথে মোটরসাইকেলে তেল না থাকায় তাঁর ছেলে রাকিবকে মুঠোফোনে তেল নিয়ে আসতে বলেন। এ সময় তাঁরা সেতুর পাশে অপেক্ষা করছিলেন। তখনই মিনিবাসের বিকট শব্দ শুনতে পান এবং দুর্ঘটনা ঘটে।
মুক্তার বলেন, মিনিবাসের ধাক্কায় তিনি, তাঁর স্ত্রী বকুল আক্তার ও সন্তান আহত হন। মিনিবাসের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া সিএনজি অটোরিকশায় থাকা দুই পরিবারের ছয়জন যাত্রী ও চালকসহ তাঁরা দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেলটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত লোকজন তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে সাতকানিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে সামনের আয়না ভেঙে দেয় দুর্বৃত্তরা। একপর্যায়ে পুলিশের অস্ত্র লুটেরও চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনার খবর পেয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। তারা পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও ধাওয়া করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল আবছার জানান, মিনিবাসের সঙ্গে সিএনজি ট্যাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিনিবাসটিতে আগুন দেয়। হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত লোকজন তাদের ধাওয়া করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।