গণশুনানিতে মানুষের অভিযোগ শুনলেন নারায়ণগঞ্জের ডিসি

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জে জনসাধারণের বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যা ও সরকারি সেবাসংক্রান্ত বিষয় সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত সাপ্তাহিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির। এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সেবাপ্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষ তাদের নানা সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা জেলা প্রশাসকের কাছে সরাসরি তুলে ধরেন। বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, মালিকানা নিয়ে বিরোধ, খতিয়ান সংশোধন, নামজারি (মিউটেশন), জমির রেকর্ড, ভূমি সেবা পেতে বিলম্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ ও আবেদন করেন সেবাপ্রার্থীরা।

জেলা প্রশাসক আগত সেবাপ্রার্থীদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনেক সমস্যার বিষয়ে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে যেসব অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি, সেসব বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গণশুনানিতে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সেবার মান আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির। তিনি বলেন, “ভূমি সংক্রান্ত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় নির্ভুল ও দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”

তিনি বলেন, ভূমির মালিকানা ও খতিয়ান সংক্রান্ত জটিলতা সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলে। এসব সমস্যা দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করা প্রয়োজন। কোনো সেবাপ্রার্থী যেন ভূমি অফিসে গিয়ে হয়রানি বা অযথা বিলম্বের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ভূমি সেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ভূমি সংক্রান্ত সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দালালচক্রের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে সেবা নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, “দালালচক্র নির্মূল করে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ভূমির সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো বৈধ অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গণশুনানিতে উপস্থিত একাধিক সেবাপ্রার্থী তাদের দীর্ঘদিনের ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। কেউ নামজারি নিয়ে জটিলতা, কেউ খতিয়ানের ভুল সংশোধন, আবার কেউ জমির মালিকানা ও রেকর্ড সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানান। তাদের অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়গুলো যাচাই করে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

এদিনের গণশুনানিতে আগত বিভিন্ন সেবাপ্রার্থীর বক্তব্য ও লিখিত আবেদন পর্যালোচনা করে বেশ কয়েকটি সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া হয়। পাশাপাশি যেসব বিষয় উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-দের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি জেলা প্রশাসনের কাছে তাদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সরকারি সেবার ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগও বাড়ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এ ধরনের গণশুনানি নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ভূমি সেবাসহ অন্যান্য সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণকে হয়রানি, দুর্নীতি ও দালালচক্রের কবল থেকে মুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতিতে নিয়মিত গণশুনানির ফলে সাধারণ মানুষ তাদের সমস্যার কথা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *