গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম-ডেঙ্গু রোগীর চাপ, বারান্দা-মেঝেতে চিকিৎসা

মোঃ সাইফুল ইসলাম:

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ করেই হাম ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে রোগীদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বছরের প্রথম আট মাসে রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও চলতি মাসে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি একদিনেই নতুন করে প্রায় ৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ হাম ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

বর্তমানে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ১৭০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে নির্ধারিত শয্যার বাইরে বারান্দা ও মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী হাসপাতালের পরিবেশ, পর্যাপ্ত ওষুধের সংকট এবং মশারির স্বল্পতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন পর্যাপ্ত না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে কিনে নিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, দেশজুড়ে ডেঙ্গুর মৌসুম চলায় এ সময় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ সমানতালে না বাড়ায় রোগীদের ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ মেজবা উদ্দিন জানান, চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় ১২৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া হাম আক্রান্ত ৮০ জনের মধ্যে ৬০ জন সুস্থ হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শয্যা না থাকায় কিছুটা সমস্যা হলেও কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হাম বা ডেঙ্গুতে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি বলেও জানান তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের দাবি, রোগীর চাপ বিবেচনায় দ্রুত পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, মশারি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ৫০ শয্যার গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে হাসপাতালটির আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *