চট্টগ্রামে দুই আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তদন্তের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানার পুরাতন গির্জা এলাকার পাশে অবস্থিত রিগ্যাল হোটেল ও পূর্বী হোটেলে আবাসিক হোটেলের আড়ালে কথিত অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে হোটেল দুটির কয়েকটি কক্ষে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের আনাগোনা এবং অনৈতিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরাতন গির্জা এলাকার পাশে অবস্থিত হোটেল দুটির বহুতল ভবনের তৃতীয় তলাসহ বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে কাজল নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগেও হোটেল দুটিতে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে এবং বিভিন্ন সময় নারী-পুরুষকে আটক করা হয়েছে। তবে আগের অভিযান ও আটকের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ, মামলা বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক নথি পাওয়া না যাওয়ায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা বলছেন, অতীতে অভিযান পরিচালিত হলেও বর্তমানে হোটেল দুটিতে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও চলছে বলে তাঁদের সন্দেহ। তাঁদের মতে, আবাসিক হোটেলের বৈধ ব্যবসার আড়ালে কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা তদন্ত করে বন্ধ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হোটেলগুলোর কার্যক্রম, অতিথিদের নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে, হোটেল দুটিতে কথিত মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কার্যকলাপের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক বাধার মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিকেরা হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ, মামলা বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির বিস্তারিত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ বিষয়ে তৎকালীন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূরকে অবহিত করা হয়েছিল। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁদের। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর বদলি হওয়ায় বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত নন।

বর্তমানে কোতোয়ালি থানার দায়িত্বে থাকা ওসি জাহেদের কাছে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তবে হোটেল দুটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ব্যবসাসহ যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, আবাসিক হোটেল পরিচালনার আড়ালে কোনো বেআইনি কার্যক্রম চললে তা বন্ধ করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। এ কারণে রিগ্যাল ও পূর্বী হোটেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রতিবেদকের নোট: প্রকাশের আগে কাজল, রিগ্যাল হোটেল ও পূর্বী হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং বর্তমান কোতোয়ালি থানা পুলিশের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। অভিযোগের পক্ষে মামলা, জিডি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য বা অন্য কোনো যাচাইযোগ্য নথি থাকলে তা যুক্ত করলে প্রতিবেদনটি আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *