কে এম তৈয়ব আলী-হীরা:
টাংগাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলায় এক বিধবা নারীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার ভিটে মাটি ও অন্যান্য সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে। নিহত সাজ্জাত হোসেন (চাঁন মিয়া)-এর বিধবা স্ত্রী কল্পনা (৬০) দীর্ঘদিন ধরে একা জীবন যাপন করছেন। তার এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর কল্পনা ভিটে মাটির ছোট ঘরে সন্তানদের লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তিনি খাবার-পানার জন্য পার্শ্ববর্তী বাড়ি ও হোটেলে বাসন ধোয়া, ধূয়া-মুছে জীবিকা চালাচ্ছিলেন।
কল্পনার পরিবার তার জন্য পুনর্বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি রাজি হননি। নিজের সন্তানদের ওপর দৃষ্টি রেখে তিনি নানা কষ্ট সহ্য করে তাদের বড় করেছেন। বর্তমানে তার ছেলে ঢাকায় বসবাস করছেন, মেয়ে বিবাহিত। কল্পনা একা থাকায় পার্শবর্তী বাড়ির আমজাদ হোসেন (৪৮) দীর্ঘদিন ধরে তাকে কু প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কল্পনা রাজি না হওয়ায় আমজাদ তার স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটে মাটি দখল ও শ্লীলতা হানি করার পরিকল্পনা করেছে।
প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, কল্পনা নিরাপত্তার কারণে তার ছেলের ভাড়া বাসায় প্রায় ১৫–২০ দিন থাকেন। এ সুযোগে আমজাদ কল্পনার বাড়িতে অবৈধভাবে বেঁড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালান। কল্পনা বাড়ি ফিরে এই পরিস্থিতি দেখে চরম আতঙ্কিত হন। তিনি দ্রুত সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ দায়ের করেন। সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা যাচাই করেন এবং অবৈধ বেঁড়া ভেঙে সরিয়ে দেন। অপরাধী আমজাদ পালিয়ে যান।
পরে, কল্পনাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে আমজাদ টাঙ্গাইলের আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি সম্পূর্ণ কল্পনার বিরুদ্ধে হয়রানি ও ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, আমজাদ হোসেন পেশাদার প্রতারক। হাট-বাজারে ক্যানভাচ করে মানুষকে প্রতারিত করে নিজের তৈরি হাতুরে ঔষধ বিক্রি করেন। তার কোন ট্রেড লাইসেন্স নেই। এই ধরনের অবৈধ ঔষধ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সচেতন মহল মনে করেন, এই ধরনের অপচিকিৎসক ও অবৈধ ঔষধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত ও ঔষধ প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয়রা আরও জানান, হকার ও চাটুকাররা স্কুল ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পথদর্শন করে অশ্লীল কণ্ঠে ক্যাপসুল ও ঔষধ বিক্রি করছে। এই ক্যাপসুল ও ঔষধ প্রাণঘাতী ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে কিডনি, লিভার ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে তৎপর হওয়া প্রয়োজন। সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, একক ব্যক্তি বা সমাজের দুর্বল অংশকে লক্ষ্য করে এমন আচরণ সমাজে অরাজকতা ও ভয় সৃষ্টি করছে। ধনবাড়ী উপজেলায় কল্পনার মতো একাকী বিধবা নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।