“রাজধানীর নারিন্দায় রাজউকের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ভবন নির্মাণ কাজ চলমান”

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা-১১০০, নারিন্দা, ৮/এ শরৎ গুপ্ত রোড এলাকায় সম্প্রতি একটি ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে, যা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নির্মাণকারীরা রাজউকের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই কাজ চালাচ্ছেন। ফলে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ভবনের নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং জীবনমানের জন্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইতিমধ্যে ভবনের প্রাথমিক নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। তবে রাজউকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এলাকার বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শুরুতেই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তীতে এই অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।

এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, “এভাবে কোনো নকশা অনুমোদন ছাড়াই ভবন তৈরি হলে আমাদের নিরাপত্তা এবং এলাকার পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। আমরা চাই, রাজউক অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করুক।”

নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী কোনো ভবন নির্মাণের আগে নকশা অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম লঙ্ঘন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এ ধরনের অবৈধ নির্মাণের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, “নকশা অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এটি এলাকার পরিবেশ, জনসেবা এবং নাগরিক নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই রাজউকের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।”

এলাকার সমাজকর্মী ও বাসিন্দারা জানান, অনুমোদনবিহীন ভবন নির্মাণ শুধু আইনগত নয়, মানবিক ও নিরাপত্তার দিক থেকেও বিপজ্জনক। তারা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং নির্মাণকাজ অবিলম্বে স্থগিত করা হোক।

রুবিনা আক্তার নামের স্থানীয় একজন সমাজকর্মী বলেন, “রাজউক যদি এখনই হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে এই অবৈধ ভবন সম্পূর্ণরূপে গড়ে উঠবে। পরে ভাঙতে গেলে আরও জটিলতা সৃষ্টি হবে, এবং এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

নগর পরিকল্পনা ও নির্মাণ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের অবৈধ নির্মাণ ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজউকের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতনতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে, এলাকার মানুষ ও সমাজকর্মীরা অবিলম্বে রাজউকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই অবৈধ নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

রাজউকের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে তদন্ত শুরু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণই একমাত্র উপায়, যা রাজধানীর নিরাপত্তা, পরিবেশ ও নাগরিক সেবার মান রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *