টাঙ্গাইলে বাঁশের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী হামলা, নারীসহ আহত ৫

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কেশব মাইঝাইল এলাকায় দীর্ঘদিনের জমি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় এক পুলিশ সদস্য কামরুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলা, জখম, লুটপাট ও হুমকির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

আদালত সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে দায়ের করা সি.আর. মামলা নং–৯৬২/২০২৬-এ বাদী আখি উল্লেখ করেন, গত ৮ মে সকালে কেশব মাইঝাইল এলাকায় তাদের বাড়ির পেছনে বাঁশের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। বেড়া নির্মাণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল, যা ওই দিন উত্তেজনায় রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে পরিণত হয়।

নালিশে বলা হয়, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা সংগঠিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বাদীর মা সূর্যবানুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মাথায় প্রায় ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই ঘটনায় বাদী আখির ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার ডান হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে এবং সেখানেও একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। হামলার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় বলে নালিশে দাবি করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় বাদীর গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। একই ঘটনায় বাদীর বোনকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া পরিবারের পিতাকেও মারধর করে আহত করা হয়েছে বলে নালিশে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তারা স্থানীয় থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৫৪, ৩৭৯ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬(৩) ধারায় সংশ্লিষ্ট থানাকে মামলা গ্রহণ করে তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *