তেজগাঁও সিএসডির কর্মকর্তা নজরুলের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর তেজগাঁও কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম (সিএসডি) কার্যালয়ের খালাস শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের কর্মজীবন, দায়িত্ব পালন এবং ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁর নামে গাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি থাকার বিষয়ে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এসব সম্পদের উৎস, ক্রয়মূল্য এবং আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, মো. নজরুল ইসলাম কর্মজীবনের শুরুতে সহকারী খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে খাদ্য পরিদর্শক হন। এরপর তিনি তল্লাশি শাখায় দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে তেজগাঁও কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামের খালাস শাখার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

তবে একজন সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং এসব সম্পদ অর্জনের আর্থিক উৎস যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, খালাস শাখার দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও মো. নজরুল ইসলাম ডেস্কভিত্তিক দাপ্তরিক কাজের তুলনায় গোডাউনভিত্তিক কার্যক্রমে বেশি সময় ব্যয় করেন। তাঁদের মতে, দায়িত্ব বণ্টন, কর্মঘণ্টার ব্যবহার এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের উপস্থিতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তবে গোডাউনভিত্তিক কার্যক্রমে বেশি সময় দেওয়াই কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়। এ ক্ষেত্রে তাঁর দায়িত্বের পরিধি, অফিসের কার্যবণ্টন, উপস্থিতির রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

গাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা নিয়ে আলোচনা

মো. নজরুল ইসলামের নামে গাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এসব সম্পদ কখন, কীভাবে এবং কী পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে অর্জন করা হয়েছে, তা নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

বিশেষ করে একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়, চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের বেতন-ভাতা, ঋণ এবং অন্যান্য বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটি যাচাই করা জরুরি।

গাড়ি কেনার বিষয়ে মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সোনালী ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গাড়িটি কিনেছেন। তাঁর এ বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত নথি, ঋণ অনুমোদনের তারিখ, কিস্তি পরিশোধের তথ্য এবং গাড়ির নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে তাঁর নামে থাকা ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা, দলিল, ক্রয়মূল্য এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি ঘিরে বিতর্ক

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিকে কেন্দ্র করে সাবেক সরকারের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এসব ছবির ভিত্তিতে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জয় বাংলা’ একসময় জাতীয় স্লোগান ছিল।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি কিংবা কোনো রাজনৈতিক স্লোগানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা দিয়ে এককভাবে কোনো কর্মকর্তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা প্রশাসনিক অনিয়ম প্রমাণ করা যায় না। ছবিগুলোর সময়, প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্টতার প্রকৃত কারণ যাচাই করা প্রয়োজন।

ব্যাংক, বিআরটিএ ও ভূমি অফিসে তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ভূমি অফিসে তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে।

গাড়ির মালিকানা ও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য, ব্যাংকঋণের প্রকৃত অবস্থা এবং জমি-ফ্ল্যাটের মালিকানা ও দলিলসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বাস্তবতা নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি তাঁর চাকরিজীবনের পদোন্নতি, দায়িত্ব বণ্টন এবং সম্পদ অর্জনের সময়কাল পর্যালোচনার বিষয়টিও অনুসন্ধানে গুরুত্ব পাচ্ছে।

দুদক বা অধিদপ্তরের তদন্ত আছে কি?

মো. নজরুল ইসলামের সম্পদ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত চলছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

অনুসন্ধান অব্যাহত

একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অনুমান নয়, প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য নথি ও প্রমাণ। তাই মো. নজরুল ইসলামের গাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি, ব্যাংকঋণ এবং চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িটি ব্যাংকঋণের অর্থে কেনা। অন্যদিকে ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা এবং সম্পদ অর্জনের আর্থিক উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্বে তাঁর সম্পদের মালিকানা, সম্ভাব্য আর্থিক উৎস, চাকরিসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে।

চলবে…

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: প্রথম পর্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *