মোঃ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ জেলায় পৃথক দুইটি ঘটনায় এক ব্যক্তির গলিত লাশ উদ্ধার এবং আরেক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ক্যানেলপাড় এলাকার একটি পরিত্যক্ত গুদাম থেকে ইসলাম রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তির গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে ফতুল্লা থানার শ্মশানগাঁও বোডবাড়ী এলাকায় ট্রাক চালক সুমন সূত্রধর (৩৪)-কে মাথায় ও ঘাড়ে কাঠের ডাসা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরিত্যক্ত গুদাম থেকে গলিত লাশ উদ্ধার
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় বউবাজার এলাকার একটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক গুদাম থেকে শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পান। পরে তারা গুদামের ভেতরে প্রবেশ করে একটি অজ্ঞাত লাশ দেখতে পান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। লাশটি দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় সম্পূর্ণভাবে পচে গলিত অবস্থায় ছিল বলে জানায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে বয়স আনুমানিক ৩০ বছর ধারণা করা হলেও পরে পরিচয় শনাক্ত করা যায়। রোববার দুপুরে পুলিশ নিশ্চিত করে নিহত ব্যক্তির নাম ইসলাম রহমান (৪৫)। তিনি গোদনাইল ক্যানেলপাড় মন্ডলবাড়ী সৈয়দপাড়া এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, লাশটি কবে এবং কীভাবে সেখানে এসেছে তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ট্রাক চালক সুমনকে পিটিয়ে হত্যা
অন্যদিকে ফতুল্লা থানার শ্মশানগাঁও বোডবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসার পারিবারিক ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ট্রাক চালক সুমন সূত্রধরকে (৩৪) নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানান, নিহত সুমন সূত্রধর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামের নারায়ণ সূত্রধরের ছেলে। তিনি ফতুল্লার শ্মশানগাঁও বোডবাড়ী এলাকার নূরী মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং পেশায় ট্রাক চালক ছিলেন।
একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন হাতেম আলী (৩৪) নামের এক ব্যক্তি, যিনি ট্রাক হেলপার হিসেবে কাজ করতেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই বাসায় বসবাসের কারণে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
পুলিশ জানায়, বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি, বরং দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়। এরই জেরে শনিবার সকালে পঞ্চবটী ট্রাক টার্মিনালের পাশে সুমনের সঙ্গে হাতেম আলীর দেখা হলে তিনি কাঠের ডাসা দিয়ে সুমনের মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে সুমন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা হাতেম আলীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং আহত সুমনকে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর রামপুরা এলাকার ডেল্টা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে শনিবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
তদন্ত চলছে
দুটি পৃথক ঘটনায় পুলিশ পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে এবং সুমন হত্যা মামলায় আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।