নুরুজ্জামান সাউদ:
ইসলামী পোশাক ও নিকাব পরে প্রকাশ্যে ‘র্যাম্প শো’ আয়োজনের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ‘নারায়ণগঞ্জ নিকাব গ্রুপ’ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপের ব্যানারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এটি ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত বলে গণ্য করছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহল।
ইমাম ও ধর্মীয় আলেমদের অভিমত:
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রখ্যাত আলেম ও মসজিদগুলোর ইমামরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইমামরা বলছেন, “নিকাব বা পর্দা ইসলামের একটি অত্যন্ত পবিত্র বিধান, যা নারীর সম্মান ও সুরক্ষার প্রতীক। একে প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু বানানো বা র্যাম্প শো’তে ব্যবহার করা ধর্মীয় বিধানের সরাসরি অবমাননা। যারা এমন কর্মকাণ্ড করছে, তারা ধর্মের মূল দর্শনকে কলঙ্কিত করছে। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তারা আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া এবং এই ধরনের অপসংস্কৃতি রোধে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা রাখা জরুরি।
প্রশাসনের কাছে দাবি:
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্প ও ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী এলাকা। এখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে। অবিলম্বে ‘নারায়ণগঞ্জ নিকাব গ্রুপ’ ও এর আয়োজকদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তারা প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগকারীদের মতে, এর বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তা সমাজে পর্দার নামে চরম বিশৃঙ্খলা ও নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি করবে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি:
অনেক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পর্দার পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করে এভাবে র্যাম্প শো করার ফলে জনমনে ভুল বার্তা যাচ্ছে। এতে যারা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে পর্দা করেন, তাদের পথে-ঘাটে বিদ্রূপ বা ইভটিজিংয়ের মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি, তবে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের দাবি, ধর্মীয় পোশাকের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।