নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ‘রবিন বাহিনী’র পিটুনিতে প্রাণ গেল ভাড়াটিয়ার

নুরুজ্জামান সাউদ:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক নারীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ করায় ফজলুল হক (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কথিত ‘রবিন বাহিনী’র বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাতে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার দুই দিন পর রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ফজলুল হক জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দেউলাবাড়ী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৈয়দপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কথিত রবিন বাহিনীর সদস্যরা এক নারীকে লাঞ্ছিত করছিল। এ সময় ফজলুল হক এগিয়ে গিয়ে এর প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাহিনীর সদস্যরা ওই নারীকে ছেড়ে ফজলুল হকের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে ঘটনার দুই দিন পর রোববার সকালে তার রক্তবমি শুরু হলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মারা যান।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আবু মিয়ার ছেলে রবিন, রমজান শেখের ছেলে নোবেল, মোক্তার হোসেনের ছেলে মিলন এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজন।

নিহতের মেয়ের অভিযোগ, বছরখানেক আগে তার ভাইকে একদল সন্ত্রাসী ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। ওই ঘটনায় ফজলুল হক নিজেই বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকেই মামলা প্রত্যাহারের জন্য তার বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। তার ধারণা, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।

খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসআই তারেক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

এ বিষয়ে ওসি এমদাদুল হক জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে রবিন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *