রুমায় কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির শীর্ষ তিন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

মো. শামীম হোসেন সিকদার:

বান্দরবানের রুমা উপজেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাদের লাগামহীন অনিয়মের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরমভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সমিতিকে ‘দুর্নীতির আখড়ায়’ পরিণত করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন প্রকাশ্যে এসব অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন।

ফি ও চাঁদার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সমিতির আহ্বায়ক মো. শাহজাহান, সদস্য সচিব লাল বেন এবং ক্যাশিয়ার আবু বক্কার সিদ্দিকী নিজেদের তৈরি করা নিয়মে সমিতি পরিচালনা করছেন। কাঠ পরিবহনের ছাড়পত্র (টিপি) পাইয়ে দেওয়া, সদস্যপদ নবায়ন এবং বৈধ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অবৈধ কমিশন বা চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে সমিতি থেকে বহিষ্কার বা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন।

তহবিল তছরুপ ও হিসাবের অস্বচ্ছতার অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমিতির সাধারণ তহবিল ও সদস্যদের কল্যাণ তহবিলের অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। প্রতি বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও নিরীক্ষা (অডিট) করার বিধান থাকলেও তা নিয়মিত করা হয় না। এছাড়া সমিতির নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের পরিবর্তে অধিকাংশ লেনদেন নগদে বা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অবৈধ কাঠ পাচার ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ

সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে মূল্যবান কাঠ পাচারের পেছনে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে, যেখানে সমিতির শীর্ষ নেতাদের পরোক্ষ মদদ রয়েছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়লেও একটি চক্র আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

সাধারণ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

কয়েকজন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন,
“আমরা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে ব্যবসা করি, অথচ লাভের বড় অংশ চলে যায় আহ্বায়ক মো. শাহজাহান, সদস্য সচিব লাল বেন ও ক্যাশিয়ার আবু বক্কার সিদ্দিকীর হাতে। সমিতি এখন সদস্যদের কল্যাণের জন্য নয়, বরং কয়েকজনের আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। আমরা এই কমিটির অপসারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নতুন ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব চাই।”

এছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, প্রতি গাড়ি কাঠ থেকে আওয়ামী লীগ নেতা আবু বক্কার সিদ্দিকী নিয়মিত ৬০০ টাকা করে ক্যাশিয়ার হিসেবে চাঁদা আদায় করেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সমিতির আহ্বায়ক মো. শাহজাহান ও সদস্য সচিব লাল বেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা প্রথমে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি

স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি, সমিতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রুমার ঐতিহ্যবাহী কাঠ ব্যবসা আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *