পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের ৮৯ শতাংশের অভিযোগ ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
২০২৩ সালের শুরু থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, ভবন ও যানবাহনে সংঘটিত অগ্নিসংযোগের প্রায় ৮৯ শতাংশের জন্য ইসরাইলি দখলদারদের দায়ী করা হয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে মোট ৯০০টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯৯টি ঘটনায় সরাসরি ইসরাইলি দখলদারদের দায়ী করা হয়েছে। আর ১০১টি ঘটনা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে ২১৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হলেও ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬৪টিতে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা আরও বেড়ে ৩০৭টিতে পৌঁছে। আর ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে, অর্থাৎ ১০ জুলাই পর্যন্ত, ১১২টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাবলুস এবং রামাল্লাহ ও আল-বিরা অঞ্চল। কমিশনের নথিভুক্ত মোট ঘটনার প্রায় ৬১ দশমিক ৩ শতাংশই ঘটেছে এই দুই এলাকায়। এর মধ্যে নাবলুসে ২৮১টি এবং রামাল্লাহ ও আল-বিরায় ২৭১টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, একই সময়ে অন্তত ১২১টি ফিলিস্তিনি জনপদ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি এলাকা পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। এসব ঘটনার ফলে ৩ হাজারের বেশি শিশুসহ ৬ হাজার ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি কমিশন এসব সহিংসতার জন্য ইসরাইলি সরকারের তৈরি করা ‘সহায়ক পরিবেশকে’ দায়ী করেছে। কমিশনের অভিযোগ, এই পরিবেশের কারণে হামলাকারীরা আইনি সুরক্ষা পেয়ে বিচার এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলো ক্রমেই অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ এবং ফিলিস্তিনিদের জমি ও পানির উৎসে প্রবেশাধিকার সীমিত করার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *