প্রেম নগরের কৃপণ নারী, অলস-নগর

প্রেম নগরের কৃপণ নারী

অলস-নগর,
নামটা শুনলে হয়তো মনে হবে, এ এমন এক রাজ্য যেখানে মানুষ কেবল অলস দুপুরের মতো নিশ্চুপ হয়ে থাকে। অথচ রাজ্যটি ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

চারদিকে ছিল জীবনের কোলাহল। রাজপ্রাসাদের উঁচু মিনারগুলো সকালবেলার রোদে সোনালি হয়ে উঠত। সন্ধ্যা নামলে নগরের প্রতিটি গলিতে জ্বলে উঠত অসংখ্য প্রদীপ। বাজারে থাকত মানুষের ভিড়, পথের ধারে থাকত ফুলের দোকান, আর রাজ্যের শেষ প্রান্তে ছিল এমন সব বাগান—যেখানে বসন্ত যেন বারো মাস নিজের ঘর বেঁধে থাকত।

এই রাজ্যেই বাস করত এক যুবক।

তার নাম,সুলতান
সুলতানের জীবনে অভাব বলে কোনো শব্দ ছিল না। অর্থ ছিল, সম্মান ছিল, নিজের একটি সুন্দর বাড়ি ছিল, ছিল পরিচিতি, ছিল মানুষের ভালোবাসা। রাজ্যের অনেকেই তাকে ভাগ্যবান বলত।

কিন্তু মানুষ যা বাইরে থেকে দেখে, তার সবটুকু কি সত্যি,সুলতানের ঘরের জানালা দিয়ে প্রতিদিন সূর্য ঢুকত, অথচ তার হৃদয়ের কোনো এক কোণে যেন বহুদিন ধরে সন্ধ্যা নেমে ছিল।

সে নিজেও জানত না, কীসের অভাব তাকে এমন নীরব করে রেখেছে,অলস নগরে সুন্দরী নারীরও অভাব ছিল না।

কেউ ছিল রূপসী, কেউ রূপবতী। কারও নাম শুকতারা, কারও ধ্রুবতারা, কেউবা প্রজাপতি। তাদের সৌন্দর্য নিয়ে নগরের কবিরা কবিতা লিখত। রাজ্যের তরুণেরা তাদের এক ঝলক দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকত।

কিন্তু সুলতান,
সে কখনো তাদের দিকে ফিরেও তাকাত না,,
কোনো নারী তার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকালে সুলতান চোখ সরিয়ে নিত। কেউ ভালোবাসার কথা বলতে চাইলে সে কথাই শেষ করতে দিত না।

মানুষ বলত,
সুলতানের হৃদয় পাথরের,কেউ বলত,সে ভালোবাসতে জানে না।
কেউ আবার হাসতে হাসতে বলত,যে মানুষ এত সুন্দরী নারীদের মাঝেও কারও প্রেমে পড়ে না, তার হৃদয় নিশ্চয়ই শুকিয়ে গেছে।

সুলতান এসব শুনে শুধু মুচকি হাসত।
কারণ সে জানত, তার হৃদয় পাথরের নয়।
বরং খুব বেশি নরম বলেই হয়তো সে তাকে এত শক্ত করে রেখেছে।

সে ছিল কঠোর, একরোখা, কখনো কখনো ভীষণ বদমেজাজি। কিন্তু কোনো অসহায় মানুষ তার সামনে পড়লে সেই কঠিন মুখের আড়ালে থাকা মানুষটি বদলে যেত।

কারও ঘরে খাবার নেই, সুলতান খাবার পাঠিয়ে দিত।
কেউ অসুস্থ,সে নিজেই ছুটে যেত।
কেউ বিপদে পড়েছে,সুলতান নিজের কথা না ভেবে তার পাশে দাঁড়াত।

সে মানুষকে সাহায্য করত, কিন্তু বিনিময়ে কিছু চাইত না। শুধু একটা জিনিস সে কখনো কাউকে দিতে পারেনি,নিজের হৃদয়,হয়তো সে অপেক্ষা করছিল
কিন্তু কিসের জন্য, কার জন্য তা সে নিজেও জানত না।

অচেনা কণ্ঠ,সেদিন বিকেলটা অন্য সব দিনের মতো ছিল না।আকাশে রোদের তেজ কমে এসেছিল। বাতাসে ছিল অদ্ভুত এক কোমলতা। সুলতান কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই নগরের বাইরে হাঁটছিল।

কখন যে সে নিজের রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে পাশের রাজ্যে চলে এসেছে, সে নিজেই টের পায়নি,
হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তার সামনে পড়ল একটি বিশাল বাগান,বাগানের প্রবেশপথে কোনো রাজকীয় প্রহরা ছিল না। শুধু কাঠের তৈরি একটি ছোট ফটক। ফটকের ওপাশে সারি সারি ফুলগাছ।

বকুলের গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছিল,সুলতান কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল,তারপর ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে পড়ল ঠিক তখনই,সে শুনতে পেল একটি কণ্ঠ।

একটি নারী কণ্ঠ,সুলতান থেমে গেল
কণ্ঠটি এতটাই কোমল ছিল যে মনে হচ্ছিল, দূরের কোনো পাখি সন্ধ্যার শেষ গানটি গাইছে।

সে চারদিকে তাকালকেউ নেই,আবার সেই কণ্ঠ ভেসে এলো,সুলতানের বুকের ভেতর কেমন যেন একটা ধাক্কা লাগল।

সে জীবনে অনেক সুন্দর কণ্ঠ শুনেছে,কিন্তু এই কণ্ঠের মধ্যে কী ছিল,মায়া,নাকি এমন কোনো অদৃশ্য টান, যার ব্যাখ্যা মানুষের কাছে নেই,সুলতান নিজের অজান্তেই ফিসফিস করে বলল।

এ কেমন কণ্ঠ…
সেদিন সে আর বেশি দূর এগোল না,
কিন্তু ফেরার পথে বারবার পেছনে তাকাল,
তার মনে হচ্ছিল, সে যেন কিছু ফেলে যাচ্ছে,
কী ফেলে যাচ্ছে,সে জানত না।

শুধু জানত
একটি অচেনা কণ্ঠস্বর আজ তার বহু বছরের নীরব হৃদয়ের দরজায় প্রথমবারের মতো কড়া নেড়েছে।

মালিনী
পরদিন আবার সে সেই বাগানে গেল,তারপরের দিনও,প্রতিদিন যাওয়ার একটা কারণ খুঁজে নিত সে। কখনো বলত, বাগানের পথটি ভালো লেগেছে। কখনো বলত, বকুল ফুলের গন্ধ তাকে টেনে এনেছে।

কিন্তু সত্যিটা ছিল অন্য,সে খুঁজছিল সেই কণ্ঠকে,
কয়েকদিন পর অবশেষে তাকে দেখতে পেল,
বাগানের এক কোণে দাঁড়িয়ে একটি তরুণী ফুল তুলছিল।

সাদা পোশাকের ওপর সকালের আলো পড়েছিল। চুলগুলো পিঠ বেয়ে নেমে এসেছে। তার মুখে কোনো রাজকীয় অহংকার ছিল না, ছিল এক ধরনের শান্তি।
সুলতান কিছুক্ষণ দূর থেকে তাকিয়ে রইল,
তারপর সাহস করে কাছে গেল।

আপনি কে
নারীটি ঘুরে তাকাল,সুলতানের বুক আবার কেঁপে উঠল,এই সেই চোখ,এই সেই কণ্ঠ, নারীটি বলল,
আমি এই বাগানের মালিনী।

আমার নাম,মালিনী
সুলতান নামটি মনে মনে কয়েকবার উচ্চারণ করল।
মালিনী,কী অদ্ভুত,একটি নামও কখনো এত সুন্দর হতে পারে।

মালিনী জিজ্ঞেস করল,
আপনি আমার বাগানে এসেছেন কেন,সুলতান একটু থেমে বলল,আমি একজন পথিক।
এ পথ দিয়ে যেতে যেতে পথ হারিয়ে ফেলেছি।

মালিনী মৃদু হেসে বলল,
পথ হারিয়েছেন, নাকি ইচ্ছে করেই পথ ভুলেছেন,
সুলতান প্রথমবারের মতো একটু লজ্জা পেল,
তারপর বলল,হয়তো দুটোই, মালিনী কিছু বলল না,
সুলতান বাগানের একটি বকুল গাছের দিকে তাকিয়ে বলল,আপনার কাছে একটা জিনিস চাইতে পারি।

মালিনী বলে কী
ওই বকুলগাছ থেকে কয়েকটি ফুল,মালিনী ভ্রু কুঁচকে তাকাল,ফুল দিয়ে কী করবেন,

সুলতান হাসল
বাড়ি ফিরে প্রেমের মালা বানাব,মালিনী সঙ্গে সঙ্গে বলল,আমার বাগানের ফুল কাউকে দিই না।

সুলতান অবাক হয়ে বলল,
একটিও না,একটি পাপড়িও না,তারপর মালিনী ঘুরে চলে গেল,সুলতান দাঁড়িয়ে রইল,তার মুখে ধীরে ধীরে হাসি ফুটে উঠল,মনে মনে বলল,কৃপণ তো বটেই,কিন্তু কী অদ্ভুত এই কৃপণতা।

পরদিন আবার সুলতান এলো,মালিনী তাকে দেখেই বিরক্ত হয়ে বলল,আবার,সুলতান মাথা চুলকে বলল,
একটু পানি পাওয়া যাবে।

পানি কেন,তৃষ্ণা পেয়েছে,মালিনী পানি দিল না,
পরদিন সে আবার এলো, আজ কী চান,কয়েকটি বকুল ফুল, না, দিবোনা।

পরদিন আজ কি চান একটু খাবার,নেই।
এভাবে প্রতিদিনই সুলতান নতুন নতুন অজুহাত নিয়ে আসতে লাগল,কখনো ফুল চাইত,কখনো পানি ,কখনো খাবার কখনো পথ জিজ্ঞেস করত,

কিন্তু মালিনী বুঝতে পারত না,এই মানুষটি আসলে কোনো কিছুর জন্যই আসছে না,সে আসছে শুধু তাকে দেখার জন্য,তার কণ্ঠ শোনার জন্য।

তার চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের ভেতরের অস্থিরতাকে একটু শান্ত করার জন্য,একদিন বাগানের বাইরে বসে সুলতান নিজেকেই বলল,এ কেমন তৃষ্ণা,যে তৃষ্ণা কোনো নদীর পানি মেটাতে পারে না,যে তৃষ্ণা শুধু তার কণ্ঠস্বর শুনলেই একটু শান্ত হয়।

সে বুঝতে পারছিল,কিছু একটা তার ভেতরে বদলে যাচ্ছে।যে মানুষ কোনো নারীর দিকে ফিরে তাকাত না, সে এখন প্রতিদিন একটি নারীর দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে।

যে মানুষ কারও কাছে কিছু চাইত না, সে এখন প্রতিদিন হাত বাড়িয়ে দাঁড়ায়। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, মালিনী তাকে প্রতিদিন ফিরিয়ে দেয়,তবুও সে পরদিন আবার আসে।

একদিন সন্ধ্যায় সুলতান এসে মালিনীর দরজায় খুব আস্তে করে টোকা দিল,তারপর দরজার দিকে তাকিয়ে বলল।

এই দরজা
ভেতর থেকে কোনো উত্তর এল না,সুলতান মৃদু হেসে বলল,তুমি কি ব্যথা পাও প্রতিদিন তোমাকে কড়া নেড়ে বিরক্ত করি বলে।

হঠাৎ ভেতর থেকে মালিনীর কণ্ঠ শোনা গেল, এই যে পথিক সাহেব,আপনাকে না কতবার বলেছি, আমার দরজায় এসে কড়া নেড়ে কিছু চাইবেন না,সুলতান চুপ করে রইল।

মালিনী বলল,
আমি কাউকে কিছু দিতে অভ্যস্ত নই,সুলতান হেসে ফেলল,জানি তাহলে আসেন কেন,সুলতান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, জানি না কেন আসছি

মালিনী বলল,
মিথ্যে বলছেন,সুলতান এবার দরজার খুব কাছে গিয়ে নিচু স্বরে বলল,আচ্ছা, সত্যিটা বলি আমি তৃষ্ণার্ত,পানি চাইতে এসেছি,

মালিনী বলে পানি তো চাইতে পারেন অন্য কোথাও,সুলতান বলে পারি,তাহলে,আমার কাছে কেন।
সুলতান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,আমার তৃষ্ণা শুধু আপনার পানি মেটাতে পারে।

মালিনী চুপ হয়ে গেল,সুলতান আবার বলল,আর আমার অন্তরের জ্বালা,আপনার বাগানের ফুটন্ত বকুল ফুল ছাড়া আর কিছুতেই শান্ত হয় না।

ভেতরে আর কোনো শব্দ হলো না,সেদিন মালিনী কোনো উত্তর দিল না,কিন্তু দরজার ওপাশে সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল।

আর দরজার এপাশে সুলতান
দুজনের মাঝখানে ছিল শুধু একটি কাঠের দরজা,অথচ সেই দরজার ওপাশে এবং এপাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি মানুষের হৃদয়ের দূরত্ব তখনও অনেক বেশি।

পরদিন সুলতান আবার এলো,
দরজায় কড়া নাড়তেই মালিনী দরজা খুলল।
সুলতানকে দেখে সে মৃদু হেসে বলল।

আপনি আবার এসেছেন কেন, আপনার কাছে ছাড়া আর কারও কাছে আমি সাহায্য চাইতে পারি না।
মালিনী অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

মালিনী বলে কেন
সুলতান তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, কারণ আমার তৃষ্ণা নিবারণের পানি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল আপনারই আছে।

মালিনী চুপ
আর আমার ভালোবাসার মালা গাঁথার জন্য ফুল দেওয়ার অধিকারও কেবল আপনার, মালিনীর মুখের হাসি মিলিয়ে গেল,মালিনী বলল,আপনি অদ্ভুত মানুষ,সুলতান মৃদু হেসে বলল, হয়তো তাই।

মালিনী কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলল,বেশ আজ যা চান, নিয়ে যান,সঙ্গে কিছু এনেছেন, সুলতান সঙ্গে সঙ্গে তার ঝুলি থেকে একটি পাত্র বের করল।

পাত্রটি ছিল পুরোনো,কিন্তু তার কাছে সেটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস,সে পাত্রটি মালিনীর দিকে বাড়িয়ে দিল।

এই পাত্রেই দিন,মালিনী পাত্রটির দিকে তাকাল,
সুলতানের চোখে তখন অদ্ভুত এক প্রত্যাশা,হয়তো আজ কিছু বদলাবে,হয়তো আজ মালিনী একটু নরম হবে,হয়তো আজ তার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হবে।

মালিনী কিছুক্ষণ পাত্রটির দিকে তাকিয়ে রইল,তারপর ঘুরে গেল চুলার দিকে,সুলতান অপেক্ষা করতে লাগল কিছুক্ষণ পর মালিনী ফিরে এলো।

কিন্তু মালিনীর হাতে পানি নেই,ফুল নেই,খাবারও নেই,জ্বলন্ত চুলার আগুন থেকে সে তুলে এনেছে এক টুকরো লেলিহান শিখা,আর সেই আগুনটুকু সে রেখে দিল সুলতানের পাত্রে,সুলতান স্তব্ধ হয়ে গেল, কিছুক্ষণ সে আগুনের দিকে তাকিয়ে রইল।

মালিনী বলল, এই নিন আপনার প্রাপ্য,তার কণ্ঠে ছিল অভিমান, বিরক্তি, হয়তো একটু বিদ্রূপও,

সুলতান কিছু বলল না,
শুধু আগুনের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর হঠাৎ মৃদু হেসে উঠল।

মালিনী অবাক হয়ে বলল,আপনি হাসছেন কেন,সুলতান পাত্রটি বুকের কাছে টেনে নিল, তার চোখে তখন অদ্ভুত এক শান্তি,সে ধীরে ধীরে বলল,কারণ এটা তুমি আমাকে দিয়েছ।

মালিনী বলল, এ তো আগুন,এতে তোমার ক্ষুধা মিটবে কি, সুলতান আগুনের দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বলল, তোমার কাছে এটা আগুন,কিন্তু আমার কাছে এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর খাবার।

মালিনী নির্বাক হয়ে গেল,সুলতান বলল,তুমি জানো, ভালোবাসা কেমন,মালিনী কোনো উত্তর দিল না।

সুলতান নিজেই বলল,
ভালোবাসা হলো এমন এক অদ্ভুত অনুভূতি, যেখানে প্রিয় মানুষের দেওয়া বিষও মানুষ অমৃত ভেবে পান করে।

তার কণ্ঠ ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠল,তার দেওয়া কাঁটাও ফুলের মতো লাগে,তার অবহেলাও অন্য কারও ভালোবাসার চেয়ে বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে,কারণ তখন মানুষ উপহারটাকে দেখে না,সুলতান পাত্রটি বুকে চেপে ধরলো

মালিনী স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল,
সুলতান শেষবারের মতো তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, উপহারের মূল্য তার ভেতরে থাকা বস্তুতে থাকে না, মালিনী। মূল্য থাকে সেই হাতটিতে যে হাত ভালোবেসে সেটি এগিয়ে দেয়।

বাগানের চারপাশে তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে, বকুল ফুলের গন্ধ আরও গভীর হয়ে উঠেছে, দূরে কোনো এক অচেনা পাখি ডেকে উঠল।

মালিনী কিছু বলল না,আর সুলতানও আর কিছু বলল না,শুধু তার বুকের কাছে তখনও জ্বলছিল সেই আগুন,তার আলোয় সুলতানের চোখে যেন অদ্ভুত এক প্রশান্তি।

সে ধীরে ধীরে বলল,ভালোবাসা এমনই হয়, মালিনী। প্রিয় মানুষের দেওয়া বিষও কখনো কখনো মানুষ অমৃত ভেবে গ্রহণ করে নেয়,কারণ উপহারের মূল্য তার বস্তুতে থাকে না।

সে মালিনীর চোখের দিকে তাকাল,উপহারের মূল্য নিহিত থাকে প্রিয় মানুষটির ভালোবাসায়, মালিনী কোনো কথা বলল না,শুধু দাঁড়িয়ে রইল।আর সুলতান তার ভালোবাসার পাত্রে জ্বলতে থাকা সেই আগুন বুকে নিয়ে ধীরে ধীরে ফিরে গেল।

পেছনে রয়ে গেল প্রেমবাগান, রয়ে গেল কৃপণ নারী মালিনী,আর তার দরজার সামনে পড়ে রইল এক অদৃশ্য প্রশ্ন যে মানুষ ভালোবাসার বিনিময়ে আগুনকেও অমৃত ভেবে গ্রহণ করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *