বিআইডব্লিউটিসিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি বাণিজ্য চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আব্দুল বারী ড্যানীর নেতৃত্বে এ ধরনের অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নিয়ম ও জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি উপেক্ষা করেই এ পদোন্নতি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিআইডব্লিউটিসির জিএম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পদোন্নতি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে আরও জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিসির সাবেক চেয়ারম্যান সলিমুল্লাহ অবসরে যাওয়ার আগে অর্থের বিনিময়ে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করিয়ে জিএম ফজলুল হককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে আত্মসাৎ করা সরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থ উদ্ধার না করেই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, জিএম ফজলুল হক ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সমর্থক ও দোসর হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না কেন—এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিসির সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে জিএম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে পুনরায় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

দুদক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) আশিকুজ্জামানসহ প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায়ও পদোন্নতি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দুদকের তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়া হলে তা বিধিবহির্ভূত হতে পারে।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে বিআইডব্লিউটিসির বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল বারী ড্যানী কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করছেন বলেও অভিযোগ করেছে একটি সূত্র। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম ও নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) অচিরেই গুরুতর সংকটে পড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও সুনাম রক্ষায় অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *