ওয়াহিদ হোসেন:
শ্যামপুর–কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী থানার সাংবাদিকদের জন্য নতুন একটি পেশাদার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে “থানা প্রেসক্লাব” আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা–৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শ্যামপুর–কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আনোয়ার হোসেন আকাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হাসান আলী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষকদল দক্ষিণের সদস্য সচিব মীর হাসান কামাল তাপস, আবুল বাশার মজুমদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা। এছাড়াও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হাজী জাহাঙ্গীর আলম এবং ঢাকা–৫ আসনের বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও সুধীজনরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, শ্যামপুর–কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী থানা প্রেসক্লাব হবে এলাকাভিত্তিক সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষার এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন প্রেসক্লাবটি সত্যনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে নবনির্মিত প্রেসক্লাবের ভবনের অবকাঠামো ও কার্যক্রম সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আকাশ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কাজেও তাদের সম্পৃক্ত করা। এই ক্লাব সাংবাদিক সমাজের জন্য নতুন শক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে।”
প্রধান অতিথি নবী উল্লাহ নবী তার বক্তব্যে বলেন, “যারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছেন, তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।
“সাংবাদিকরা সমাজের চতুর্দিকের প্রতিবিম্ব। তাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। এই প্রেসক্লাব হবে সাংবাদিকদের সংগঠিত ও পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।”
তিনি আরও বলেন, কিছু হলুদ সাংবাদিক রয়েছে যারা বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করছে। আমি তাদেরকে সতর্ক করছি—আপনারা সঠিক ও সত্য সংবাদ লিখুন। বর্তমানে যারা এই ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন, ভবিষ্যতে যদি আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুষ্ঠান বা সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আমরা তাদের সহায়তা করবো না”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষভাবে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়, যা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সকল সাংবাদিক, অতিথি এবং এলাকার সাধারণ মানুষদের মধ্যে সমানভাবে পরিবেশন করা হয়। এসময় উপস্থিত সকলেই খুশি এবং এই উদ্যোগকে সামাজিক ও মানবিক দিক থেকে প্রশংসা করেছেন।
সংবাদ পরিবেশকরা মনে করেন, শ্যামপুর–কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী থানার সাংবাদিকরা এখন থেকে একটি সুসংগঠিত ফোরামের মাধ্যমে পেশাগত এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে। এই প্রেসক্লাব শুধুমাত্র সাংবাদিকদের জন্য নয়, বরং এলাকার সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং আগামীতে আরও পেশাগত উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পথ সুগম করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।