আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে চার দিনব্যাপী অভিযানে ৫৪ জন বিদ্রোহী এবং ৪২ জন সেনা ও পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। ৪ থেকে ৭ জুলাই পরিচালিত এ অভিযানের তথ্য মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবিভাগীয় জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী।
রাওয়ালপিন্ডিতে আইএসপিআরের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বেলুচিস্তানের উরাক, মাঙ্গি, খারান, দালবান্দিন ও লাসবেলা জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আইএসপিআর প্রধান বলেন, অভিযানের সময় একাধিক স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়। সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে মাঙ্গি চেকপয়েন্টে, যেখানে ৬ জুলাই সংঘটিত অভিযানে ২৬ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। এই ২৭ জনই বেলুচিস্তান পুলিশের সদস্য ও কর্মকর্তা ছিলেন।
তিনি আরও জানান, চার দিনের অভিযানে মোট ৫৪ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের দাবি, নিহত সবাই বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-এর সদস্য।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই বেলুচিস্তানে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন ও সশস্ত্র তৎপরতা চলমান। পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে। বর্তমানে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
পাকিস্তানের অভিযোগ, বিএলএসহ বেলুচ বিদ্রোহীদের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেয় ভারত। এ কারণেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী গোষ্ঠীটিকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে উল্লেখ করে। তবে ভারত বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, “ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের সঙ্গে বেলুচিস্তান বা বেলুচ জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান হবে না। দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের শেকড় উপড়ে ফেলতে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর।”
সূত্র: জিও নিউজ