আবু সায়েদ:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১ নম্বর উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বাড়িতে সৌদি প্রবাসী নিবির গাজীর স্ত্রী মোছা. জোনাকি বেগমের ওপর মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জোনাকি বেগম বর্তমানে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে নিবির গাজীর বড় ভাই আকবর হোসেন গাজী, তার স্ত্রী রহিমা বেগম, বোন খাদিজা, ভগ্নিপতি শাহাবুদ্দিন রাড়ী, বোন শাহনাজ আক্তার, কাসেম সরদার, বাবা কালাম গাজী এবং চাচাতো বোন তাজু আক্তারসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে জোনাকি বেগমের ওপর হামলা চালান। এ সময় বসতঘরে ভাঙচুর করা হয় এবং প্রায় আট আনি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে জোনাকি বেগমকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। পরে তার মা, বোন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর বাবা মুসলিম সরদার ও মা নাজমা বেগম দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই তাদের মেয়ের ওপর একাধিকবার নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অতীতেও ৫ থেকে ৬ বার মারধরের অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তাদের ভাষ্য, প্রবাসে স্বামী থাকার সুযোগ নিয়ে জোনাকি বেগমকে নিয়মিত নির্যাতন করা হয় এবং বাড়িতে বসবাস করতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি তাদের উদ্যোগে আলাদা ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার পরও সেখানে থাকতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সৌদি প্রবাসী নিবির গাজী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতির সুযোগে স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।