চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড মডেল থানায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের তৎকালীন সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে থানার প্রধান ফটকের ভেতরে গাড়ি পার্কিং নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। পরে ইসমাইল হোসেনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে ইসমাইল হোসেন একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় যান। থানার প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত কনস্টেবল ও থানার গাড়িচালক মো. শফিকের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ালে শফিক আহত হন বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, থানার গেটে গাড়ি রাখা নিয়ে কনস্টেবল শফিকের সঙ্গে ইসমাইল হোসেনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শফিককে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ইসমাইল হোসেনকে আটক করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসমাইলকে ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় নেতারা থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মুচলেকা নিয়ে তাকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যুবদলের পক্ষ থেকেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে সামান্য কথা-কাটাকাটির জের হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, থানার ভেতরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি এবং পরে মারধরের অভিযোগের বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির বিস্তারিত বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
থানার মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সংঘটিত এই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।