সোনারগাঁয়ে জাতীয় নির্বাচনী শত্রুতায় যুবক খুন, ইউপি সদস্য আটক

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী: 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধের জেরে নয়ন (প্রায় ৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার সকালে সনমান্দী ইউনিয়নের সাজালেরকান্দী এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত নয়ন মারুবদী গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী ফিরোজ আহমেদের সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষের হামলায় নয়নকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় নয়ন বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রাতভর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে শনিবার সকালে সাজালেরকান্দী এলাকায় ফতেহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রী মানছুরা আক্তার জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা বন্দর উপজেলার কেওঢালা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ঘটনার দিন বিকেলে নয়ন বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন এবং আর ফিরে আসেননি। পরে সকালে তার মৃত্যুর খবর পান তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা নয়নকে ধারালো অস্ত্র ও টেঁটা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে রাতের আঁধারে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িত অন্যান্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পাশাপাশি এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *