নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামে যাত্রীবাহী বাসের মালামাল রাখার বক্সে থাকা হাইড্রোলিক জ্যাকের ভেতর থেকে ২৮ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার হওয়া এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মো. জালাল উদ্দীন (৪৪) নামে এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে নগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি উত্তর ও দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার শেখ শরিফুল ইসলাম।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে নগরের বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় নাহার স্কেলের সামনে অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। ডিবি উত্তর বিভাগের টিম-১, টিম-২ ও বিশেষ দলের সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৭৯৫৪) তল্লাশিচৌকিতে পৌঁছালে সেটিতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে বাসের যাত্রী জালাল উদ্দীনকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেখানো মতে, বাসের মালামাল রাখার বক্সে থাকা গাড়ি উঁচু করার কাজে ব্যবহৃত লোহার হাইড্রোলিক জ্যাকের ভেতর থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। সাধারণ যন্ত্রের আড়ালে বিশেষ কৌশলে এসব মাদক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন, মাদক কারবারিরা পরিবহনের ক্ষেত্রে নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তবে অপরাধীরা কৌশল পরিবর্তন করলেও পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনছে। মাদক ও অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গ্রেপ্তার জালাল উদ্দীনের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার উত্তর ডেইলপাড়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিপাড়ায়। তাঁর বাবার নাম মৃত হাসেম। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ৯ জুলাই কক্সবাজার সদর থানায় এবং ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট ঢাকার মতিঝিল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।
অভিযানের সাফল্য প্রসঙ্গে ডিবির উপকমিশনার বলেন, সব অভিযানে একই ধরনের ফল পাওয়া যায় না। কখনো একাধিক অভিযানে পাওয়া তথ্য সঠিক নাও হতে পারে, আবার কোনো অভিযানে সফলতা আসে। তবে তথ্য ভুল হওয়া বা অভিযানে ব্যর্থতার কারণে পুলিশ বসে থাকে না। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাদক ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।
বাসটি জব্দ করা হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৮ ধারায় কোনো পরিবহনে মাদক বহনের ক্ষেত্রে চালক বা মালিকের জ্ঞাতসারে সম্পৃক্ততা থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি বাসের চালক, সুপারভাইজার বা সহকারী নন। তিনি টিকিট কেটে সাধারণ যাত্রী হিসেবে বাসে উঠেছিলেন এবং হাইড্রোলিক জ্যাকের ভেতরে ইয়াবা লুকিয়ে নিজেই বহন করছিলেন। এ কারণে বাসটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করার পর তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।