নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী দুই বছরের মধ্যে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা এবং ভর্তি থেকে সনদ সংগ্রহ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে ‘উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল রূপান্তর’ শীর্ষক পরামর্শক কর্মশালায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক, উচ্চগতির ওয়াই-ফাই ও সহায়তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ চালু এবং পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটাল ক্যাম্পাসে রূপান্তর করা হবে।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ভর্তি, ফি জমা, আবাসিক হলের আসনসংক্রান্ত তথ্য এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক সেবা অনলাইনে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ভর্তির আবেদন, ফি জমা এবং হলের আসনসংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন। পড়াশোনা শেষে সনদ সংগ্রহের জন্যও যেন বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আবেদন ও ফি জমা দিতে না হয়, সে ধরনের অনলাইন সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। এ লক্ষ্যে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউজিসি।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিভাগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী ইন্টার্নশিপের চাহিদা জানাবে। অন্যদিকে, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরগুলো কতজন শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিতে পারবে, তা উল্লেখ করবে। ইউজিসি দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি কমাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটারবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে পর্যাপ্ত যোগ্য শিক্ষক নেই। এ সমস্যা সমাধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ক্লাসে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ ও গতিশীল করতে সমন্বিত সফটওয়্যার এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ভর্তি, হিসাব, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনা এবং বৃত্তিসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। পাশাপাশি রেজিস্ট্রার ও হিসাব বিভাগের কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে একই ধরনের সফটওয়্যার তৈরি না করে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো সমন্বয় ও কার্যকরভাবে ব্যবহারের বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তাঁর মতে, উচ্চশিক্ষার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য হার্ডওয়্যার, নেটওয়ার্ক, তথ্য সংরক্ষণব্যবস্থা ও সফটওয়্যারের সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন।
কর্মশালায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ও অধ্যাপক ড. আসলাম হোসেন এবং হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বক্তব্য দেন। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও গবেষক এবং ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের কর্মকর্তারা অংশ নেন।