মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
গত শনিবার রাত ৮ ঘটিকায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বরফকল চৌরঙ্গী ইকো পার্ক ভাসমান রেস্টুরেন্টে প্রবীণ নাগরিকদের সমন্বয়ে সংগঠিত ৫০ ঊর্ধ্ব কফি হাউজ শেষবেলা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠানটি দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। প্রথম পর্ব ঈদ পুনর্মিলনী উৎসব ও দ্বিতীয় পর্ব বাংলা বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির সভাপতি মোঃ শাহ্ আলম। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির অতিরিক্ত চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি শহীদ উল্লাহ, স্থায়ী কমিটির নির্বাহী পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ মামুন, স্থায়ী কমিটির পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি সালিমা আক্তার শান্তা, স্থায়ী কমিটির পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হোসনেয়ারা বেগম, স্থায়ী কমিটির পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মোঃ বিল্লাল হোসেন, স্থায়ী কমিটির পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কবি সিরাজুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগম, সহ-সভাপতি শাহানা মান্নান বুলবুল, নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ, বিজয় পত্রিকার সম্পাদক বিশিষ্ট ছড়াকার সাব্বির আহমেদ সেন্টু।
অনুষ্ঠানমালার প্রধান অতিথি আসন অলংকৃত করেন গীতিকার, সুরকার, লেখক, কবি ও সাহিত্যিক প্রফেসর আমির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক ইনচার্জ মোঃ এম. এ. করিম ও সমাজসেবক নাসির মৃধা।
এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আমি ৫০ ঊর্ধ্ব কফি হাউজ শেষবেলা ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একসাথে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছি। যদি সুযোগ হয় প্রবীণ নাগরিকদের পাশে থেকে বলবো ফাউন্ডেশনের স্লোগানকে এগিয়ে নিতে বৃদ্ধাশ্রম নয় পরিবার হোক সুরক্ষিত বাসযোগ্য স্থান। আমাদের জানা মতে অনেক জ্ঞানী-গুণীজন অকপটে স্বীকার হচ্ছে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজ গৃহে গৃহবন্দি হয়ে। এই সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য কোনো বৃদ্ধাশ্রম নয়, প্রবীণ নাগরিক বৃন্দ সারাজীবনের অর্জন দিয়ে ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলে। শেষ জীবনে ভালো থাকার জন্য যে বসতি স্থাপন করে, সে বসতি স্থাপনা থেকে তাকে নির্দয় নির্যাতনের শিকার হয়ে কখনো বস্তাবন্দি অবস্থায় ডাস্টবিনে কাতরাতে হয়, ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন, টার্মিনাল ঘাটে হয়তো কোনো সমাজকর্মী তার দায়িত্ব থেকে এই প্রবীণ বৃদ্ধাকে বৃদ্ধাশ্রমে শেষ ঠিকানা করে দেয়। এটাকি প্রবীণ নাগরিকদের জীবন শেষবেলার প্রাপ্তি? প্রশ্ন দেশের চালিকাশক্তির কাছে। বৃদ্ধাশ্রমে বেশিরভাগ প্রবীণ সুশিক্ষায় শিক্ষিত। এই অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের মুক্তির জন্য চেষ্টা করায় ৫০ ঊর্ধ্ব কফি হাউজ শেষবেলা ফাউন্ডেশনের সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক ইনচার্জ এম. এ. করিম তার বক্তব্যে বলেন, আজ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনন্দিত হয়েছি এবং পাশাপাশি নিজেকে গর্ববোধ করছি। বৃদ্ধাশ্রম নয় পরিবারই হোক সুরক্ষিত স্থান—তাদের এই স্লোগানটি সাধুবাদ জানাই। সেই সাথে বর্তমান সময়ে যুগোপযোগী প্রবীণদের নিয়ে তাদের এই পদক্ষেপটি দেখে আমি মুগ্ধ হলাম। বর্তমান সময়ে আমরা অনেকেই কর্মব্যস্ততার কারণে পরিবারের বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে সময় ও সেবা যত্ন না দিয়ে অতি সহজেই বৃদ্ধাশ্রমে দেওয়ার কথা চিন্তা করি। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে এই মন-মানসিকতা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। তারা যেভাবে আমাদের শিশুকাল থেকে লালন-পালন করে বড় করেছেন ঠিক সেইভাবে আমরাও তাদেরকে সেবা যত্ন করে যাব। এটাই হোক আমাদের সকলের অঙ্গীকার।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাড. বিল্লাল হোসেন, শাহানা মান্নান বুলবুল, হোসনেয়ারা বেগম, মনোয়ারা বেগম, সালিমা আক্তার শান্তা, কবি সিরাজুল ইসলাম, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক কবি জয়নুল আবেদীন জয়, শুকুর মাহমুদ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বৃদ্ধাশ্রম নয় পরিবার হোক সুরক্ষিত বাসযোগ্য স্থান এই ক্যাপশনে উজ্জ্বল ও কার্যকরী সদস্য জহিরুল ইসলাম মিন্টুর প্রযোজনায় মূকাভিনয় নাটিকা মঞ্চস্থ হয়।
পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে আপ্যায়ন পর্ব শেষে সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।