স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রাজউকের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বহুতল আবাসিক ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘ভীষণ ৭১’ নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানির নির্মাণাধীন ভবনকে ঘিরে এ অভিযোগ নিয়ে একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও নির্মাণকাজ বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের রাজউক-১/১ চণ্ডালভোগ (খালপাড়) ব্রিজসংলগ্ন রাস্তার পশ্চিম পাশে অবস্থিত ওই নির্মাণাধীন ভবন নিয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজউকের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেখানে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। শুধু দিনের বেলায় নয়, দিন-রাত অব্যাহতভাবে নির্মাণকাজ চলার অভিযোগও করেছেন তারা।
এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও কেন নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়নি—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলে সেখানে কীভাবে প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চলতে পারে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজউকের নিয়ম-নীতি ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ নিয়েই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এর আগে নির্মাণাধীন ভবনটি সম্পর্কে জানতে সরেজমিনে সেখানে গিয়ে ‘ভীষণ ৭১’ কোম্পানির মালিক আতিকুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। এ সময় সেখানে উপস্থিত তার পরিচিত এক প্রকৌশলী পরিচয়ের ব্যক্তির সঙ্গে নির্মাণকাজের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি বলে জানা যায়। বরং সাংবাদিকরা কেন সেখানে এসেছেন—এমন প্রশ্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজউকের একজন অথরাইজড অফিসার (১/১) শেখ মুহাম্মদ এহসানুল ইমামকে ম্যানেজ করে ভবনটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অথরাইজড অফিসার কিংবা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি।
প্রশ্ন উঠেছে, ভবনটির নির্মাণকাজের বৈধতা কী, রাজউকের নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে কার্যকর আছে কি না এবং বর্তমানে ভবন নির্মাণের অনুমোদন রয়েছে কি না। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা থাকলে তার পরও নির্মাণকাজ কীভাবে চলমান রয়েছে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা এবং একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও যদি নির্মাণকাজ চলতে থাকে, তাহলে অভিযোগটির বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে ভবনটির অনুমোদন, নকশা, নির্মাণের বৈধতা এবং নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, নগরীতে বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা, নির্মাণবিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। কোনো ভবনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে কি না এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে—এসব বিষয় জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ এবং অভিযোগ জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট অথরাইজড অফিসার (১/১) শেখ মুহাম্মদ এহসানুল ইমামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ‘ভীষণ ৭১’ কোম্পানির মালিক আতিকুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্যও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে পাওয়া গেলে কিংবা তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, অভিযোগটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নয়; বরং রাজউকের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ চলমান থাকার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত পরিস্থিতি জনসমক্ষে তুলে ধরা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।