আটপাড়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও নারী নির্যাতন; এলাকাবাসী আতঙ্কে

মোশারফ হোসেন জসিম পাঠান: 

নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার দূওজ ইউনিয়নের হরিপুর ও শ্রীরাম পাশা গ্রামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

জানা যায়, হরিপুর গ্রামের জিয়া উদ্দিনের ছেলে মোঃ হৃদয়ের সঙ্গে একটি মাদ্রাসার ছাত্রকে শাসন করা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে পার্শ্ববর্তী হরিপুর গ্রামের মোঃ শুকুর আলীর ছেলে শরিফ মিয়ার সঙ্গে গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যায় একটি দোকানের সামনে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে মোঃ হৃদয় আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদয়ের মৃত্যু হয়েছে—এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, এই গুজবকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। তারা অন্তত ৬টি বসতঘরে লুটপাট ও ৩টি ঘর ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার সময় নারীদের পরনের কাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। নারীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও মারধর করা হয়। এতে গ্রামজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। বিশেষ করে একটি আলোচিত পিয়াস হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে শত্রুতা আরও তীব্র হয়। ওই মামলায় শ্রীরাম পাশা গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে মোঃ শামীম মিয়া সাক্ষী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই পুরোনো প্রতিহিংসার জের ধরেই শামীমসহ তার পরিবারের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়।

ঘটনার পর ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। এলাকাবাসী তাদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এটি পরিকল্পিত হামলা ও লুটপাট।

এ ঘটনায় মৃত রহমত আলীর স্ত্রী মমতা আক্তার বাদী হয়ে গত ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আটপাড়া আমলি আদালতে একটি দরখাস্ত করেন। আদালত পরদিন দরখাস্তটি আমলে নিয়ে আটপাড়া থানায় পাঠান। পরে থানায় মামলা রুজু হয়। মামলায় মোঃ গিয়াস উদ্দিনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নম্বর ১১/১৪৪, ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৪২৭/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৮৯/১১৪/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০।

বাদী অভিযোগ করেন, বর্তমানে তাদের পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। উল্টো মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *